দুয়েকজনের পদস্খলনেও বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে

বিচারপতি মির্জা হোসেইন

| সোমবার , ১ মার্চ, ২০২১ at ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ

দুয়েকজনের পদস্খলনে পুরো বিচার ব্যবস্থা যদি ভেঙে পড়ে, তাহলে প্রগতির ধারা যে বন্ধ হয়ে যাবে, কর্মজীবনের শেষ কার্যদিবসে সহকর্মী, আইনজীবী ও বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে সেই সতর্কবাণী দিয়ে গেলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার। খবর বিডিনিউজের।

সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়ায় রোববার বিচারিক দায়িত্ব থেকে অবসরে গেলেন এই বিচারক। এ উপলক্ষে তাঁকে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে বিদায় সংবর্ধনা জানানো হয়।
প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতি ও আইনজীবীরা ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে এই আয়োজনে যুক্ত ছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস কাজল বিদায় সম্ভাষণ জানান।
বিদায় ভাষণে বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, “বিচার ব্যবস্থার সাথে জড়িত দুয়েকজনের পদস্খলনে পুরো বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। একবার যদি বিচার ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তাহলে যে কোনো সময় অপশক্তি আমাদের দেশ ও সমাজকে গ্রাস করে নিতে পারে। আমাদের প্রগতির ধারা অন্ধ প্রাচীরে বন্দি হয়ে যাবে।”

তবে সেই শঙ্কাকে মিথ্যে প্রমাণ করে সবার যৌথ প্রয়াসে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা আরো পরিণত ও উন্নত হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদায়ী এই বিচারক বলেন, “বিচার বিভাগে দুর্নীতির কালো মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে, এই অনাকাঙ্‌ক্িষত অপপ্রচার আজকাল প্রায়শ আমাদের কানে আসে। বিচার ব্যবস্থায় কারো একক অধিকার নেই। কারো একক প্রয়াসেও তা চলতে পারে না।
“সমষ্টিগত প্রয়াসে ঐকান্তিক প্রচেষ্টাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একমাত্র পূর্বশর্ত। তাই বিচারক থেকে শুরু করে বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলেরই একে অপরের সাথে নিবিঢ়ভাবে সংযুক্ত থেকে কাজ করতে হবে। সুবিচার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে বিচারালয়ের সর্বনিম্ন কর্মকর্তা থেকে সর্বোচ্চ পদাধিকারীর ঐক্যবদ্ধ থাকা একান্ত প্রয়োজন।”
বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার বলেন, “সাংবিধানিকভাবে বিচার বিভাগ স্বাধীন। কিন্তু বাস্তবে কতটুকু, তা আমরা সকলেই জানি এবং বুঝি। রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ- নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ। এই তিনটি বিভাগের চৌহদ্দি সংবিধান লক্ষণ রেখার মাধ্যমে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঅসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা কমাচ্ছে সংক্রমণও
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে দুই মৃত্যু শনাক্ত আরো ২৯