সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ৮ বছর বয়সী শিশু ইরা মনিকে গলা কেটে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার মো. বাবু শেখ। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত–১ এর বিচারক সায়মা আফরিন হীমার আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক এ জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেওয়া চাঞ্চল্যকর শিশু ইরা মনি হত্যা মামলায় আগামী ২৭ এপ্রিলের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
সীতাকুণ্ড থানার এএসআই (জিআরও) বেলাল হোসেন দৈনিক আজাদীকে বলেন, গ্রেপ্তার পরবর্তী পুলিশ বাবু শেখকে আদালতে হাজির করে। একপর্যায়ে বাবু শেখ শিশু ইরা মনি খুনের দায় স্বীকার করে বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শিশু ইরা মনির গলায় ছুরি চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে গত ৩ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনা পরবর্তী ভিকটিম শিশুর মা রোকেয়া বেগম বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে গত ৩ মার্চ সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকা থেকে ঘটনায় জড়িত বাবু শেখকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন সীতাকুণ্ড থানায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইরা মনির বাবা মনিরুলের সঙ্গে বিরোধের জেরে তার ৮ বছরের মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাবু শেখ। এর অংশ হিসেবে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টা ও পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান তিনি।
ঘটনায় দায়ের হওয়ার মামলার এজাহারে বলা হয়, বাবু শেখ বিভিন্ন সময়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার স্বভাব চরিত্র ভালো নয়।
প্রসঙ্গত, শিশু ইরা মনি সীতাকুণ্ডের ছোট কুমিরা মাস্টার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী সে। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটম চালক। অন্যদিকে বাবু শেখের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানার মধ্যম পুলুপাড়া এলাকায়। তিনি ইরা মনির বাড়ির পাশের ঘরে বসবাস করতেন।









