রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলীর বিরুদ্ধে পিআইও কার্যালয়ে এসে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে হট্টগোলের অভিযোগে সাধারণ ডায়েরির আবেদন (জিডি) করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও)। গতকাল শনিবার বাঘাইছড়ি থানায় জিডির আবেদন করেন বাঘাইছড়ির পিআইও সুপ্তশ্রী সাহা। জিডিতে সুপ্তশ্রীন্সাহা উল্লেখ করেন, ‘২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর আমি বাঘাইছড়ি উপজেলায় যোগদান করি। যোগদানের পর হতে বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী উপজেলা সরকারি প্রকল্পের বিভিন্ন কাজে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতেন এবং সর্বশেষ গত ২২ জুন দুপুর সোয়া ১২টার দিকে (১২.১৫ মিনিট) আমার অফিসে এসে উপজেলা প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথির তথ্য চান। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিত তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় উনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী অন্যের লাইন্সেসের সিকিউরিটি মানির টাকা তার কর্মীর হাতে তুলে দিতে বলেন। উক্ত টাকা আমি দিতে রাজি না হওয়ায় আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘তারই ধারাবাহিকতায় তার দলের কিছু অনুসারী গত ১০ জুলাই আমার অফিসে এসে বন্যার্তদের বিতরণের ত্রাণ তাদেরকে দিয়ে দিতে বললে আমি রাজি না হওয়ায় উচ্ছৃঙ্খল আচরণসহ হট্টগোল করে চলে যান। একইদিন সন্ধ্যায় মুসলিম ব্লক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ত্রাণ বিতরণ করতে গেলে ‘হুমায়ুন রশিদ’ নামের একটি ফেইসবুক আইডি থেকে লাইভে গিয়ে আমাকে নিয়ে বিভিন্ন আজে–বাজে কথা বলা হয় এবং আমার নাম উল্লেখ করে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেয়া হয়।’ জিডিতে তিনি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের পরামর্শক্রমে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বলে উল্লেখ করেন।
বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দীন মজুমদার বলেন, ‘পিআইও উপজেলা বিএনপির সভাপতির নাম উল্লেখ করে একটা জিডির আবেদন করেছেন।’
এদিকে, অভিযোগ প্রসঙ্গে বাঘাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওমর আলী বলেন, ‘পিআইও–র করা অভিযোগ সত্য নয়। রাজনৈতিকভাবে আমার কিছু প্রতিপক্ষ আছে, তারা ষড়যন্ত্র করছে। আমি একজনের বিলের বিষয়ে কথা বলার জন্য তার রুমে যাই। কিন্তু কোনো ধরনের খারাপ আচরণ করিনি। থানায় সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি আমি জেনেছি। তদন্তে যদি আমি অপরাধী হই তাহলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে আপত্তি নেই।’












