সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনরায় উপাচার্য হিসেবে পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ ও আন্দোলন কর্মসূচি তৃতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যেই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম অনলাইনে যোগ দিয়েছেন। এর প্রতিবাদে গতকাল সন্ধ্যায় মশাল মিছিল করেছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা। এদিকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ও বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি বিভাগে বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারে চূড়ান্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে তা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। এতে অচল হয়ে পড়ে চুয়েট। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম জানান, চলমান আন্দোলনের কারণে আজকের নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে মানববন্ধনের আয়োজন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা নানা স্লোগান দেন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় কোনো ধরনের দৃশ্যমান কারণ বা ব্যাখ্যা ছাড়াই অধ্যাপক সায়েমকে অপসারণ করা হয়েছে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের প্রতি ব্যক্তিগত কোনো ক্ষোভ না থাকলেও, এই অন্যায্য ও আকস্মিক পরিবর্তন তারা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
মানববন্ধন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা জানান, গত বুধবার পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং জেলা প্রশাসকের কাছে তাঁরা স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। এছাড়া এদিন প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠিও পাঠানো হয়। এদিকে আন্দোলনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার শিক্ষা সচিবের নিকট নিজের যোগদানপত্র পাঠান নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, চুয়েটের সাবেক ছাত্র হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আবেগ ও গভীর ভালোবাসা রয়েছে এবং দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সার্বিক উন্নয়নে কাজ করতে চান।

শরীফুল আলম বলেন, ‘বিকেল ৪টার দিকে অনলাইনে যোগদান করেছি। সচিব মহোদয়ের মাধ্যমে যোগদান সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে যোগদানের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।’ ক্যাম্পাসে সশরীরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, খুব দ্রুতই ক্যাম্পাসে যাব। তার আগে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়গুলোর সমাধান করা হবে।
অন্যদিকে, চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসানুল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে নতুন দায়িত্ব পাওয়া উপাচার্যের বিষয়ে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা উনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাই না।’
অধ্যাপক আহসান উল্লাহ বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এ সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান সম্ভব। অল্প সময়ের সুরাহা না হলে চুয়েটের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন বলে মন্তব্য করেন মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ। তিনি বলেন, দাবি আদায়ে রোববার থেকে অবস্থান ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করব। নতুন কর্মসূচি থাকলে আপনাদের যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।
এদিকে উপাচার্য পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপন বাতিল ও অধ্যাপক সায়েমের পুনর্বহালের দাবিতে আগের দিনের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারও ক্যাম্পাসে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালিত হয়। এছাড়া পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে একটি প্রতিবাদী মশাল মিছিল বের করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তাঁদের দাবি মেনে নেওয়া না পর্যন্ত সর্বাত্মক শাটডাউন ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।








