নগরীর কোতোয়ালী থানার একটি বলাৎকারের মামলায় ‘হাইকোর্টে জামিন আবেদন পেন্ডিং নেই’ জানিয়ে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১ এ জামিন আবেদন করেছিলেন আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত ১৬ বছর বয়সী এক শিশু। আদালত সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে তার জামিন মঞ্জুরও করেন। পরবর্তীতে দেখা গেল, হাইকোর্টে তার পক্ষে করা জামিন আবেদন তথা ক্রিমিনাল আপিল মামলা পেন্ডিং রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে বাদীপক্ষ থেকে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করে তার জামিন বাতিল চেয়ে একটি আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেছেন। অর্থাৎ তথ্য গোপন করে নেওয়া জামিন বাতিল করে সংঘাতে জড়িত সেই শিশুকে কারাগারে (গাজীপুরের কিশোর উন্নয়নকেন্দ্র) পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৭ এর বিচারক এ আদেশ দেন। শুধু হাইকোর্টে জামিন আবেদন পেন্ডিং বিষয় গোপন করা হয়েছে তা নয়, হাইকোর্টে থাকা মামলার মূল নথি বিচারিক আদালতে উপস্থাপনও করা হয়েছে সংঘাতে জড়িত শিশুর পক্ষে। এক্ষেত্রে তার আইনজীবীকে সতর্ক করেছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুছ দৈনিক আজাদীকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন খলিলপট্টি মারকাযুল কুরআন ওয়াচ্ছুন্নাহ মাদ্রাসায় হেফজ বিভাগের ১০ বছর বয়সী শিশু বলাৎকারের ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় ভিকটিম শিশুর মা বাদী হয়ে গত ১১ মে ১৬ বছর বয়সী শিশু তথা হেফজ বিভাগের হুজুর আব্দুল্লাহ বিন হুমায়ুনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত শিশুটি এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ভিকটিমকে একাধিকবার বলাৎকার করেছে। ওই মামলায় পুলিশ মামলা দায়েরের দিনই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতের কাছে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনালসূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–১ এর বিচারক আসামিপক্ষের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন। তবে জামিন শুনানির সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী ট্রাইব্যুনালকে জানান যে, হাইকোর্ট বিভাগে এই বিষয়ে কোনো মামলা বা জামিন আবেদন পেন্ডিং নেই। কিন্তু বাদীপক্ষ খোঁজ নিয়ে জানতে পারে, এর আগেই আসামিপক্ষে জামিন চেয়ে হাইকোর্ট বিভাগে ‘ক্রিমিনাল আপিল মামলা নং–৪৮১৪/২০২৬’ দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি হাইকোর্টের এনেঙ বিল্ডিংয়ের ৮ নম্বর কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে এবং সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর আদেশ হয় যে, উক্ত বিষয়ে অবকাশের পর শুনানি হবে।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে আরো গেছে, উচ্চ আদালতে জামিন আবেদন পেন্ডিং থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন করে বিচারিক আদালত থেকে জামিন নেওয়ার বিষয়টি জানিয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী ট্রাইব্যুনালে জামিন বাতিল চেয়ে একটি বিশেষ দরখাস্ত দাখিল করেন। গতকাল ওই দরখাস্তের উপর উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তথ্য গোপনের বিষয়টি আমলে নিয়ে আসামির জামিন বাতিল করেন এবং তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের পিপি জানান, উচ্চ আদালতে আবেদন পেন্ডিং থাকা অবস্থায় বিচারিক আদালতে জামিন চাওয়া আইনসম্মত নয়। এছাড়া হাইকোর্টে থাকা মামলার মূল নথি কীভাবে বিচারিক আদালতে উপস্থাপন করা হলো–এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সতর্ক করেছেন।












