ঢাকার আন্তর্জাতিক এবং ডোমেস্টিক দুটি টার্মিনালে ড্রাইভওয়ে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রাইভওয়েতে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, দেশে এমন কী সংকট তৈরি হয়েছে যে কর্তৃপক্ষ ড্রাইভওয়ে বন্ধ করে রেখেছে। এতে করে সব যাত্রীকে পার্কিং এরিয়া থেকে হেঁটে টার্মিনালে প্রবেশ করতে হচ্ছে। অপরদিকে বিদেশ ফেরত যাত্রীদের ব্যাগ–ব্যাগেজ টেনে পার্কিং এরিয়াতে গিয়ে গাড়িতে চড়তে হচ্ছে। সুস্থ মানুষেরা কোনোরকমে এসব ধকল সামলাতে পারলেও অসুস্থ এবং হুইল চেয়ার ব্যবহারকারী যাত্রীদের কষ্ট সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছেন, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট এবং সতর্কতার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থাপনা হিসেবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। বিষয়টি সাময়িক এবং নির্বাচন পর্যন্ত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শাহ আমানত বিমানবন্দরে প্রতিদিন ৩০টির মতো ফ্লাইট চলাচল করে। আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ রুটের এসব ফ্লাইটে অন্তত ৫ হাজার যাত্রী বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একটি সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ফলে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বিমানবন্দরের ড্রাইভওয়েতে কোনো গাড়ি চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। সব গাড়িকে বাধ্যতামূলকভাবে পার্কিং এরিয়ায় প্রবেশ করতে হচ্ছে। ওখান থেকে যাত্রীদেরকে লাগেজসহ হেঁটে ড্রাইভওয়ে পার হয়ে টার্মিনালে প্রবেশ করতে হচ্ছে। অপরদিকে চট্টগ্রামে আসা যাত্রীদেরকে টার্মিনাল থেকে বের হয়ে ড্রাইভওয়ে পেরিয়ে পার্কিং এরিয়াতে প্রবেশ করে গাড়িতে চড়তে হচ্ছে। এতে অসুস্থ এবং প্রবাসীদের যারা অনেক জিনিসপত্র নিয়ে স্বজনদের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন তাদের কষ্ট মাত্রা ছাড়িয়েছে। ঢাকা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক দুটো টার্মিনালে ড্রাইভওয়েতে নেমে যাত্রীরা যাতায়াত করলেও চট্টগ্রামে কেন এই সুবিধা বন্ধ করা হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুটো ছবি দিয়ে বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি এবং চিটাগাং ক্লাবের সাবেক প্রেসিডেন্ট এস এম আবু তৈয়ব লিখেছেন, পৃথিবীতে সম্ভবত একমাত্র চট্টগ্রাম বিমানবন্দরই এমন, যেখানে বিমানবন্দরের আশেপাশে যাত্রীদের ভিড়তে দেয়া হয় না। যদি কোনো দেশে যুদ্ধ বা সংঘাত চলে তাহলে অন্য কথা। যেমন ইউক্রেন, গাজা ইত্যাদি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, চট্টগ্রামের কোথাও কোনো যুদ্ধ বা সংঘাত চলছে? যার কারণে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা হুমকির মুখে?
তার এই পোস্টের পর নেটিজেনরা নানা মন্তব্য করেছেন। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, পার্কিং এরিয়ার ইজারাদারকে বিশেষ সুবিধা দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একটি কার বা মাইক্রোবাস পার্কিং এরিয়াতে প্রবেশ করলে ৬০ টাকা এবং সিএনজি টেঙি ২৫ টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিমানবন্দরে যাওয়া সব গাড়িকে বাধ্যতামূলকভাবে পার্কিংয়ে প্রবেশ করতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ডোমেস্টিক ফ্লাইটের যাত্রীদের বহনকারী গাড়ি থেকে পার্কিং ফি নেয়া নিষিদ্ধ করলেও তা পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। গাড়ি ঢোকার সময় টাকা নেয়া হচ্ছে। অনেকে জানেন না ডোমেস্টিক যাত্রীদের ফি ফ্রি করা হয়েছে।
এস এম আবু তৈয়ব আজাদীকে বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। এটা করা কি খুব জরুরি? নিরাপত্তার ব্যাপারটি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে ড্রাইভওয়েতে প্রবেশের আগে যাত্রীদের টিকেট চেক করে ঢুকতে দিলেই তো ঝামেলা চুকে যায়। তিনি বলেন, আত্মীয়স্বজন বা দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ থাকুক, সমস্যা নেই; কিন্তু যাত্রীদের টিকেট চেক করে ড্রাইভওয়ে ব্যবহারের সুযোগ দিলে ভোগান্তির অবসান হতো।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার ইব্রাহিম খলিল বলেন, কিছুদিন আগে একটি থ্রেট আসার পর গোয়েন্দা সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার অংশগ্রহণে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকে ড্রাইভওয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিমানবন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর একটি জায়গা। এখানে নিরাপত্তার বিষয়টি সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখতে হয়। কোনো একটি অঘটন ঘটলে তা পুরো জাতির জন্য সংকটের কারণ হয়ে উঠবে। বিষয়টি সাময়িক এবং নির্বাচন পর্যন্ত থাকবে।












