ট্রাইব্যুনালে শাপলা চত্বরের মামলায় আসামি হচ্ছেন সাবেক আইজিপি মামুন

| বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

এক যুগ আগে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হচ্ছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। প্রসিকিউশন বলছে, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সময় র‌্যাবের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ত থাকার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। খবর বিডিনিউজের।

ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, “ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ২০১৩ সালের ৫ মের ওই ঘটনায় সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। শাপলা চত্বরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যেতে পারে।

এর আগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাজসাক্ষী হয়েছিলেন সাবেক আইজিপি মামুন। ট্রাইব্যুনালে ওই মামলায় ৫ বছরের লঘুদণ্ড পেয়ে তিনি এখন কারাগারে আছেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিলও করেছেন তিনি।

শাপলা চত্বরের মামলা নিয়ে প্রধান কৌঁসুলি আমিনুল ইসলাম বলেন, তৎকালীন দায়িত্বশীল অনেক কর্মকর্তা, যার মধ্যে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের নামও রয়েছে, তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য তদন্তে উঠে আসছে। তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তিনি বেসামরিক ব্যক্তি, পুলিশ, র‌্যাব বা সেনাবাহিনীর সদস্য যেই হোন না কেনসকলকেই বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনাকে একটি স্বতন্ত্র ঘটনা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে দেশে সংঘটিত গুম ও কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংশ্লিষ্ট থানা থেকে চাওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে যেগুলো ওয়াইড স্প্রেড এবং সিস্টেমেটিক অপরাধ হিসেবে প্রমাণিত হবে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচার প্রক্রিয়ায় আনা হবে।

চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনের অন্য একটি মামলায় রাজসাক্ষী হওয়ার বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, কোনো একটি মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া মানে এই নয় যে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অন্য সব ঘটনায় দায়মুক্তি পাবেন। একটি নির্দিষ্ট ঘটনার জন্য দেওয়া দায়মুক্তি অন্য পৃথক ঘটনায় প্রযোজ্য নয়। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি’ আলাদাভাবে বিবেচিত হয়।

বর্তমানে শাপলা চত্বরের ঘটনা ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। গত ৫ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল১ আগামী ৭ জুন পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছে। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬ জন গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেনসাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান, সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক, সাবেক দুই ডিআইজি মোল্যা নজরুল ইসলাম, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল এবং একাত্তরের ঘাতকদালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসীতাকুণ্ডে কৃষক হত্যা মামলার অন্যতম আসামি গ্রেপ্তার
পরবর্তী নিবন্ধজনদুর্ভোগ লাঘবে জ্বালানি সংকট নিরসন করুন : মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম