নগরীর টাইগারপাসের পাহাড় রক্ষায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নতুন ডিজাইন করা হচ্ছে। টাইগারপাসের পাহাড় না কেটে এই ফ্লাইওভারের কানেক্টিভিটি বাড়ানোর জন্যই ডিজাইনে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিএটিএস-এমআইএসটির বিশেষজ্ঞ টিমের পরিচালিত সমীক্ষার পর এক্সপ্রেসওয়েকে আরো গণমুখী করতে নতুন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ডিজাইনে জিইসি মোড়, আমবাগান রাস্তার মাথা এবং টাইগারপাস মোড়ে নতুন র্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ফ্লাইওভারটি অনেক বেশি ব্যবহৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং নগর পুলিশ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নতুন ডিজাইনে সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, পাহাড় কাটা নিয়ে ফৌজদারহাট-বায়েজিদ লিংক রোডে সংকট তৈরি হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩শ কোটি টাকা খরচ করেও রাস্তাটি পুরোদমে চালু করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নগরীর যান চলাচলে গতি আনতে লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সন্নিকটস্থ টানেল রোড পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মূলত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি বহদ্দারহাট থেকে শুরু হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে। বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার থেকে নেমে মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার ফ্লাইওভার পর্যন্ত আসার পর এখান থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত টানা চলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে। ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হয় কাঠগড় থেকে। ধাপে ধাপে নির্মাণের কাজ চলছে। পতেঙ্গা থেকে আসা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটিতে টাইগারপাস পাহাড়ের পাদদেশ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। মূল ডিজাইনও ওভাবে করা হয়েছিল। কিন্তু পরে পাহাড় কাটা এবং টাইগারপাসের সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে। সিডিএও কোনো পাহাড় না কাটার সিদ্ধান্ত নেয়।
এতে করে নতুন করে সমীক্ষা পরিচালনা এবং ডিজাইন পরিবর্তনের ব্যাপারটি সামনে চলে আসে। সিডিএ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিএটিএস-এমআইএসটিকে দায়িত্ব প্রদান করে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টাইগারপাস থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত এলাকায় সার্ভে চালায়। যানবাহনের চলাচলের গতি-প্রকৃতি, গন্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেওয়ানহাট থেকে ওয়াসা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ডিজাইন পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে নতুন ডিজাইনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে টাইগারপাসের পাহাড়ের কোনো ক্ষতি না করেই ডিজাইন তৈরি করা হচ্ছে।
নতুন ডিজাইনে বারিক বিল্ডিং থেকে আসা চার লেনের ফ্লাইওভার দেওয়ানহাটে ঢাকা-চট্টগ্রাম ট্রাংক রোডে নির্মিত ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে দেওয়ানহাট ওভারব্রিজের পশ্চিম পাশ দিয়ে এসে টাইগারপাস পার হয়ে বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়ের রাস্তার সামনে পৌঁছবে। চার লেনের এই ফ্লাইওভার পাহাড়ের দিকে না গিয়ে রাস্তার মাঝখানে থাকবে। পিলারও রাস্তার মাঝখানে হবে। সিটি কর্পোরেশনের কার্যালয়ের রাস্তা পর্যন্ত পৌঁছার পর চার লেনের ফ্লাইওভারের দুই লেন ম্যাজিস্ট্রেট কলোনির আগে রাস্তায় নেমে যাবে। বাকি দুই লেন রাস্তার মাঝখান দিয়ে গিয়ে ওয়াসা মোড়ে বিদ্যমান আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের সাথে যুক্ত হবে। এতে বিমানবন্দর রোড ধরে আসা গাড়িগুলো সড়ক পথে অল্প পথ গিয়ে প্রয়োজনে আবারো ফ্লাইওভারে উঠবে কিংবা নিচ দিয়ে চলে যাবে। এই পয়েন্টে ফ্লাইওভারে ওঠা গাড়িগুলোর জন্য রাস্তা ডেডিকেটেড করে দেওয়া হবে।
অপরদিকে জিইসি মোড়ে পেনিনসুলা হোটেলের পাশ থেকে একটি র্যাম্প বিদ্যমান আক্তারুজ্জামান ফ্লাইওভারে যুক্ত করে দেওয়া হবে। নগরীর নিউ মার্কেট থেকে আসা রাস্তার সাথে টাইগারপাস মোড়ে একটি র্যাম্প ফ্লাইওভারে যুক্ত করা হবে। যাতে মুরাদপুর, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, জিইসি মোড় এবং নিউ মার্কেট হয়ে আসা গাড়িগুলো অনায়াসে ফ্লাইওভারে উঠে যেতে পারে। এছাড়া আমবাগান রাস্তার মাথায় একটি র্যাম্প নামানো হবে। আগ্রাবাদসহ অন্যান্য লুব ও র্যাম্পের ডিজাইন অপরিবর্তিত থাকছে। নতুন এই ডিজাইনে টাইগারপাসের পাহাড় কাটতে হবে না। রাস্তার মাঝখান দিয়ে ফ্লাইওভার চলে যাবে।
বিষয়টি নিয়ে চসিক ও নগর পুলিশের সাথে বৈঠক করেছে সিডিএ। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) শ্যামল কুমার নাথ, চসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এএএম হাবিবুর রহমানসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে এমআইএসটির প্রতিনিধি কর্নেল নাসিরউদ্দিন আহমেদ এবং বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আজাদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান টাইগারপাসের পাহাড় রক্ষায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নতুন ডিজাইনের কথা স্বীকার করেছেন।












