টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে একটা পর্যায়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে থেকেও দিশা হারিয়েছিল পাকিস্তান। তখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল নেদারল্যান্ডস। কিন্তু ১৮.২ ওভারে ফন বিকের বলে ফাহিমের ক্যাচ উঠলেও সেটা নিতে পারেননি ম্যাক্স ও’ডাউড। পরে সেই ফাহিম আশরাফই ৩ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করেন। কলম্বোতে উদ্বোধনী ম্যাচে ১৪৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা পাকিস্তানের স্কোর এক পর্যায়ে ছিল ২ উইকেটে ৯৮। সেখান থেকে পরে ১১৫ রানে স্কোর হয়ে যায় ৭ উইকেট। শেষটা হয়ে দাঁড়ায় রোমাঞ্চকর। ম্যাচটা ডাচদের দিকে ঝুঁকেও পড়েছিল। ১৮ ওভার শেষে সমীকরণ ছিল ১২ বলে ২৯ রান। ১৮.১ ওভারে ছক্কা মেরে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার বার্তা দেন ফাহিম। কিন্তু পরের বলেই তাকে আউটের সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু ক্যাচ মিস করায় পরে ম্যাচটাও মিস হয়েছে নেদারল্যান্ডসের। ফাহিম ওই ওভারে দুটি ছক্কা ও একটি চার মেরে ম্যাচটা নিজেদের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসেন। তার পর তো ১৯.৩ ওভারে ৪ মেরে নিশ্চিত করেন ৩ উইকেটের জয়। জয়ের নায়ক ফাহিম ১১ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। শাহীন অপরাজিত থাকেন ৫ রানে। ডাচদের হয়ে ৩৩ রানে দুটি নেন আরইয়ান দত্ত। ২০ রানে দুটি নেন পল ফন মিকারেন। লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা খারাপ ছিল না পাকিস্তানের। পাওয়ার প্লেতেই পাঁচ ওভারে স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৫৩। সাহেবজাদা ফারহান ৩১ বলে ৪৭ রান করে শুরুর ভিত গড়েন। মাঝপথে দ্রুত কয়েকটি উইকেট তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে নেদারল্যান্ডস। ৭ উইকেট হারাতেই চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন ফাহিম আশরাফ। তাই ম্যাচসেরাও তিনি। এর আগে দিনের শুরুতে পাকিস্তানের স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১৪৭ রানে গুটিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। সর্বোচ্চ ৩৭ রান আসে অধিনায়ক স্কট অ্যাডওয়ার্ডসের ব্যাট থেকে। তাছাড়া বাস ডি লিড ৩০ ও মাইকেল লেভিট ২৪ রান করেন। পাকিস্তানের হয়ে ২৪ রানে তিনটি উইকেট নেন সালমান মির্জা। দুটি করে নেন আবরার আহমেদ ও সাইম আইয়ুব।
এদিকে ইডেন গার্ডেনসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে উদ্বোধনী দিনে মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। সেই দলের বদলি হয়ে খেলতে নেমে হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে স্কটল্যান্ড। তাদের ৩৫ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছে ক্যারিবিয়ানরা। ১৮৩ রানের লক্ষ্যে জবাবটা ভালোই দিচ্ছিল স্কটল্যান্ড। ১৩.১ ওভার পর্যন্ত ম্যাচেই ছিল তারা। জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন রিচি ব্যারিংটন ও টম ব্রুস। ২৪ বলে ৪২ রান করা ব্যারিংটনের আউটে ৭৮ রানের এই জুটি ভাঙতেই ধসে পড়ে স্কটল্যান্ডের ইনিংস। পরের ওভারে বিদায় নেন ২৮ বলে ৩৫ রান করা টম ব্রুসও। তার পর আর ম্যাচে থাকেনি তারা। শেষ ৭ উইকেট হারিয়েছে মাত্র ৩২ রানে। তাতে ১৮.৫ ওভারে ১৪৭ রানেই শেষ হয় দলটির ইনিংস। টুর্নামেন্টের প্রথম হ্যাটট্রিকসহ ৫ বলে ৪ উইকেট নিয়েছেন রোমারিও শেফার্ড। সব মিলে ২০ রানে মোট ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আর ৩০ রানে ৩টি উইকেট নেন জেসন হোল্ডার।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৮২ রানের বড় সংগ্রহ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। শুরুর ভিতটা গড়েন শাই হোপ (১৯) ও ব্র্যান্ডন কিং (৩৫)। তার পর ইনিংসটা পরিণত করতে বড় অবদান শিমরন হেটমায়ারের। ৩৬ বলে ২ চার ও ৬ ছক্কায় ৬৪ রান করেন তিনি। হেটমায়ার আউট হন দলের ১৭৫ রানে। এই সময় স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করতে তাকে সঙ্গে দেন রোভম্যান পাওয়েলও। ১৪ বলে ২৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন। তাছাড়া ১৩ বলে ২৬ রানের ক্যামিও ইনিংস উপহার দেন শেরফানে রাদারফোর্ড।












