জুলাই আন্দোলনের সময় মাথায় গুলি লাগলে ক্ষতস্থানে যে পতাকা বেঁধে নিয়েছিলেন ছাত্রদল নেতা শেখ আজিজুর রহমান, রক্তমাখা সেই পতাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি দেখা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা জানিয়েছেন।
আজিজুর রহমান ঢাকার সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তিনি। বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়ায়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব সুজাউদ্দৌলা বলেন, জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন আজিজুর রহমান। তার মাথায় গুলির ক্ষতচিহ্ন ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি বুলেটের স্প্লিন্টারের চিহ্ন এখনো সাক্ষী হয়ে আছে। আন্দোলনের মাঠে গুলিবিদ্ধ আজিজুর তার মাথার রক্ত বন্ধ করতে যে জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধেছিলেন, সেই রক্ত মাখা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেছেন। খবর বিডিনিউজের।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময় মিরপুর–১০ ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়েছিলেন আজিজুর। আন্দোলনের একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। মাথার ক্ষত স্থানে জাতীয় পতাকা বেঁধে নিয়েছিলেন। সেই সময়কার ঘটনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে আজিজুর বলেন, মাথার ক্ষত স্থান থেকে রক্তে জাতীয় পতাকা ভিজে গিয়েছিল। তারপরও আমি রাজপথ ছাড়িনি। ১৯ জুলাই আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়, রিমান্ডে নেওয়া হয়। ছাত্রদল করেছি বলে আমার নাম জুলাই যোদ্ধার তালিকায় আসেনি।
‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও ছাত্রদল করায় জুলাই যোদ্ধার স্বীকৃতি মেলেনি’ সাম্প্রতিক এমন খবরে আজিজুর রহমানকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া হয়। উপ প্রেস সচিব বলেন, আজিজুর রহমানের লেখাপড়া ও চিকিৎসার খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী। সিএনজি চালিয়ে লেখাপড়ার খরচ মেটাচ্ছে আজিজুর। তার জীবন সংগ্রামের কথা শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাৎ শেষে আজিজুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা হয়েছে। কী যে আনন্দ সেটা আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আমার ইচ্ছা ছিল রক্তমাখা জাতীয় পতাকা আমি প্রধানমন্ত্রীকে দেব। সেই ইচ্ছা আমার পূরণ হয়েছে। দিনটি আমার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।












