জলকেলিতে মুখর পাহাড়

চলছে মারমাদের সাংগ্রাই উৎসব

আজাদী ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ

পুরোনো বছরের সব দুঃখকষ্ট ধুয়ে মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পাহাড়ে শুরু হয়েছে মারমা সমপ্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসব। বান্দরবান ও খাগড়াছড়িতে মৈত্রী পানিবর্ষণ বা জলকেলিতে মেতেছেন মারমা তরুণতরুণীরা। মঙ্গল শোভাযাত্রা, বুদ্ধমূর্তি স্নান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে পাহাড়ের এই প্রধান সামাজিক উৎসব।

বান্দরবান : প্রতিনিধি জানান, বান্দরবানে মারমা জনগোষ্ঠীর প্রধান সামাজিক উৎসব সাংগ্রাইয়ের জলকেলিতে মেতেছেন তরুণতরুণীরা। প্রচলিত আছে, মৈত্রী পানিবর্ষণ বা জলকেলির মাধ্যমে মারমা তরুণতরুণীরা ভাবের আদানপ্রদান করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। চার দিনব্যাপী এই উৎসবের মূল অনুষ্ঠানমালায় গতকাল বুধবার ছিল জলকেলির প্রথম দিন। বিকেলে স্থানীয় রাজার মাঠে কেন্দ্রীয়ভাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি।

এ সময় বান্দরবানের স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরিসহ সরকারিবেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জলকেলি প্রতিযোগিতায় সদর ও রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মারমা তরুণতরুণীরা দলবদ্ধভাবে অংশ নেন। এছাড়া রাজার মাঠসহ পাহাড়ের গ্রামগুলোতে জলকেলিতে মেতে ওঠে শিশুকিশোররাও। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে সাঙ্গু নদীর চড়ে বুদ্ধমূর্তি স্নান অনুষ্ঠানে মিলিত হন কয়েক হাজার নারীপুরুষ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, পাহাড়ে পাহাড়িবাঙালি ১৩টি জনগোষ্ঠীর সহাবস্থান সামপ্রদায়িক সমপ্রীতির বড় উদাহরণ। পাহাড়ের জাতিসত্তাগুলোর ঐতিহ্যসংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকার উদ্যোগ নেবে। উৎসব উদযাপন কমিটির সভাপতি চথুই প্রু মারমা জানান, বৃহস্পতিবার (আজ) মূল অনুষ্ঠানমালা শেষ হলেও পাহাড়ের গ্রামগুলোতে উৎসব চলবে আরও কয়েক দিন।

খাগড়াছড়ি : প্রতিনিধি জানান, সাংগ্রাই শোভাযাত্রা ও মৈত্রী পানিবর্ষণ উৎসবের মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে মারমা জনগোষ্ঠীর সাংগ্রাই উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে মারমা উন্নয়ন সংসদের উদ্যোগে জেলা সদরে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও অলংকার পরে এতে অংশ নেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

সকালে খাগড়াছড়ি সেনাবাহিনীর রিজিয়ন কমান্ডার এ কে এম ওবায়দুল হক মৈত্রী পানিবর্ষণ উৎসবের উদ্বোধন করেন। একই স্থানে মারমা শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। এর আগে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি মংপ্রু চৌধুরী।

শোভাযাত্রাটি পানখাইয়াপাড়া মারমা উন্নয়ন সংসদ মাঠ থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। উৎসবে অংশ নেওয়া তরুণী জলিপ্রু মারমা বলেন, নতুন বছর যেন সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে সেই প্রার্থনাই করছি। মারমা উন্নয়ন সংসদের সভাপতি মংপ্রু চৌধুরী বলেন, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে মারমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ভাষা সুরক্ষিত হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাছের প্রজনন রক্ষায় সাগরে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা
পরবর্তী নিবন্ধখালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু