জনবল বাড়িয়ে দপ্তরগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ করার দাবি

আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রক চট্টগ্রাম দপ্তরের সেবা সংকুচিত

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ২৭ ডিসেম্বর, ২০২০ at ৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ

আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রক চট্টগ্রাম দপ্তরের সেবার পরিধি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতারা। তারা বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে বাণিজ্যিক আমদানি অনুমতি (আইপি) ইস্যু না করার কোনো যৌক্তিকতা দেখছি না। চট্টগ্রাম অফিসে জনবল নিয়োগ দিলে এখান থেকে আইপি ইস্যু করা সম্ভব। দপ্তরের অর্গানোগ্রামও সেভাবে করা আছে। অথচ দুই বছর আগে সব ধরনের আইপি ইস্যু ঢাকা থেকে করার সিদ্ধান্ত নেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এতে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একইসাথে অর্থের অপচয় এবং সময়ক্ষেপণও হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে সব ধরনের বাণিজ্যিক আমদানি অনুমতি ঢাকা থেকে করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বর্তমানে আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের চট্টগ্রাম দপ্তরে সেবা মিলছে মাত্র দুটো। অথচ আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের সেবা রয়েছে মোট ৫৫টি।
চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহাবুবুল আলম : চট্টগ্রাম হচ্ছে দেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড।
আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিচালিত হয়। চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসও সুপ্রাচীন। অথচ চট্টগ্রাম থেকে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রামে আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তর আছে, কিন্তু তাদের কাজের ক্ষমতা কমানো হচ্ছে। এখানে জনবল ও বিভিন্ন সুযোগ বাড়িয়ে গতিশীল করার কথা; সেখানে বিভিন্ন সেবা ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দুদিন আগেও একটি মিটিংয়ে বাণিজ্য সচিবকে বিষয়টি জানিয়েছি। এছাড়া গত বছর চেম্বারের একটি অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী মহোদয়কে আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের কাজের পরিধির বিষয়ে জানিয়েছি। এছাড়া চেম্বারের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো নিয়ে চিঠিও লিখেছি। যেখানে ইজ অব ডুয়িং বিজনেস এবং কস্ট অব ডুয়িং বিজনেসের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে চট্টগ্রাম দপ্তর থেকে সেবা ঢাকায় নিয়ে যাওয়া মেনে নেওয়া যায় না। ঢাকার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে কাজের ক্ষেত্রে বিকেন্দ্রীকরণ করা জরুরি বলে আমি মনে করি। বর্তমান সরকার ব্যবসাবান্ধব সরকার। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ করার জন্য চট্টগ্রামের দপ্তরগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে হবে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এএম মাহবুব চৌধুরী : চট্টগ্রামে এখন ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যয় দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। প্রতিটা দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ হয় সেই দেশের বন্দরকে ঘিরে। চট্টগ্রাম দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর। আমরা বৈদেশিক বিনিয়োগ চাইব, আবার ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হবে না, তা তো হবে না। চট্টগ্রামে এক সময় অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর ছিল। ধীরে ধীরে সেগুলো ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। দেশে এখন ব্যবসা-বাণিজ্য আগের তুলনায় বেড়েছে। চট্টগ্রামকে আবার বাণিজ্যিক রাজধানীও বলা হচ্ছে। কিন্তু বাণিজ্যিক সুযোগ-সুবিধার জন্য যদি এখনো ঢাকায় দৌড়াতে হয়, তাহলে ব্যবসায়ীদের ব্যয় বেড়ে যাবে। ব্যয় বাড়লে স্বাভাবিকভাবে পণ্যের দামের ওপর প্রভাব পড়বে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, চট্টগ্রাম থেকে ব্যবসায়ীরা যদি বাণিজ্যিক আইপিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিতে পারেন, তাহলে ঢাকার ওপর চাপও কমবে।
উইম্যান চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবিদা মোস্তফা : চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী কেবল কাগজেপত্রে। একটা সময় ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম থেকে নেওয়া হতো। এক সময় অনেক দপ্তরের হেডকোয়ার্টার চট্টগ্রামে ছিল। স্বাধীনতার পরে এসব হেডকোয়ার্টার ঢাকামুখী হওয়ার কারণে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীদের ঢাকার ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে যায়। দেশের ৮০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে হয়। অথচ চট্টগ্রাম আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তরের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবা ঢাকা প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিভিন্ন সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আমাদের সমস্যার কথা জানিয়েছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত খুব একটা সুফল পাইনি। আমরা আশা করব, দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে চট্টগ্রাম আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তরটি যেন স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হয়।
জুনিয়র চেম্বারের সভাপতি টিপু সুলতান শিকদার: ব্যবসায়িক বেশ কিছু দিক থেকে চট্টগ্রাম বৈষম্যের শিকার। দেশের আর কোনো মহাসড়কে ওজন স্কেল নেই। সীতাকুণ্ডে ওজন স্কেলের মাধ্যমে যেন চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যকেই নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এখন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা একটি ট্রাকে ১৩ টনের বেশি পণ্য আনা-নেওয়া করতে পারেন না। আবার দেখা যাচ্ছে, চট্টগ্রাম আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকেও একে একে বিভিন্ন সেবা ঢাকামুখী করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে এখানে মোট সেবা অন্তত ৫০ শতাংশ থাকার দরকার ছিল। কিন্তু দেখা যাচ্ছে চট্টগ্রামে সেবা রয়েছে মাত্র ৫ শতাংশ। বাকি ৯৫ শতাংশ সেবা নিতে ব্যবসায়ীদের ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমাদের দাবি, চট্টগ্রাম আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের দপ্তরে জনবল নিয়োগের মাধ্যমে আগের মতো যেন সেবার পরিধি বাড়ানো হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইভটিজিং করতে গিয়ে ধরা, কারাগারে বখাটে
পরবর্তী নিবন্ধফুটপাতের স্থাপনা সোমবারের মধ্যে সরানোর নির্দেশ সুজনের