ছোট ও মাঝারি গরুর বিক্রি বেশি, বড় গরুর চাহিদা কম

ক্রেতাদের অভিযোগ; দাম ধরে রেখেছেন বেপারিরা

জাহেদুল কবির | মঙ্গলবার , ২৬ মে, ২০২৬ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

কোরবানির ঈদের সময় বাকি আছে আর মাত্র দুইদিন। তাই পশুর বাজারগুলোতে এখন রয়েছে ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি। ক্রেতা উপস্থিতি বাড়লেও এখনো কাঙ্ক্ষিত পশু বিক্রি হচ্ছে না বলছেন বেপারিরা। তারা জানান, গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাজারে হাতেগোনা ক্রেতা ছিল। তবে বিকেলের দিকে বাজারে ক্রেতা সমাগম বাড়তে থাকে। এছাড়া সন্ধ্যার আগমুহূর্তে বৃষ্টির কারণে ক্রেতাবিক্রেতাদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। সন্ধ্যার পর পর নগরীর প্রধান দুই বাজার সাগরিকা ও বিবিরহাট বাজারে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বেপারিরা এখনো পশুর দাম ধরে রেখেছেন। ছোট ও মাঝারি আকারের গরু ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকাচ্ছেন। তবে গরুর দাম রোববারের চেয়ে গতকাল কম ছিল।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর পশুবাহী প্রচুর ট্রাক নগরীর বাজারগুলোতে প্রবেশ করছে। বাজারগুলোতেও বিপুল পরিমাণ গরু রয়েছে। তাই অনেক ক্রেতা ভাবছেন হয়তো শেষ মুহূর্তে হয়তো দাম কমতে পারে। অনেক ক্রেতা প্রতিদিন বাজারে আসলেও গরু কিনছেন না। আবার শহরের বাসা বাড়িতে গরু রাখতেও অসুবিধা হয়, সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েও অনেক গরু কিনেননি। সরেজমিনে গতকাল সাগরিকা ও বিবিরহাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি ও বিক্রেতাদের হাঁকডাকে জমে উঠতে শুরু করেছে এই দুই বাজার। ক্রেতারা দেখেশুনে পছন্দের গরুটির দরদাম করছেন। পছন্দ হলে মূল্য ও হাসিল পরিশোধ করে খুশিমনে তাদের বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। সাগরিকা বাজারে নগরীর মুরাদপুর থেকে আসা ক্রেতা আহমদ হোসেন বলেন, বিক্রেতারা গরুর দাম হাঁকিয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় দফারফা করলাম। গরুর দাম চিন্তা করলে হয়তো একটু বেশি হয়েছে। যেহেতু কোরবানি দিচ্ছি, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। সুতরাং সুন্দর গরু কিনতে হলে টাকার দিকটা একটু ছাড় দিতেই হয়। সাগরিকা বাজারে আসা অপর ক্রেতা নুরুল হক বলেন, বাজারে এখনো প্রচুর গরু। সাগরিকা মূল বাজার ছাড়িয়ে আশপাশের রাস্তাতের প্রচুর গরুর দেখা যাচ্ছে। কিন্তু বিক্রেতারা এখনো বেশি দাম হাঁকাচ্ছেন।

সাগরিকা বাজারের গরু বেপারি ইয়াছিন আলী বলেন, কুষ্টিয়া থেকে ছয়জন মিলে ১৩০টি গরু এনেছি। এখন পর্যন্ত বিক্রি করতে পেরেছি মাত্র ৬০টি। তবে বাজারে গত দুইদিন ধরে ক্রেতা বেড়েছে। কিন্তু তারা গরুর দাম বলছেন অনেক কম। প্রতি বছর আমাদের গরুর প্রতিপালন ব্যয় বাড়ছে। গোখাদ্যের দামও গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এছাড়া পরিবহন ব্যয় ও নিজেদের আনুষঙ্গিক ব্যয় তো আছেই।

এদিকে নগরীর কর্ণফুলী মইজ্জারটেক পশুর বাজার ও কর্ণফুলী নুর নগর হাউজিংয়ের পশুর বাজারেও ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এই দুই বাজারে দেশি গরুর সংখ্যাই বেশি। ক্রেতার উপস্থিতি বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত বিক্রি হয়নি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নুর নগর হাউজিং বাজারের গরু বেপারি ইলিয়াছ উদ্দিন বলেন, গত দুই দিনে ১২টি গরু বিক্রি করেছি। এখন আরো ১৫টি অবিক্রিত আছে। তাই একটু টেনশনে আছি। শেষ দিনের আগেই সবগুলি গরু বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

উল্লেখ্য, কোরবান উপলক্ষে নগরী ও উপজেলায় স্থায়ী ১৭০টি বাজার বসেছে। নগরীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় ৩টি স্থায়ী ও ৭টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। স্থায়ী হাটগুলো হচ্ছেসাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট গরুর বাজার ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। অস্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে মধ্যম হালিশহর মুনির নগর আনন্দ বাজার সংলগ্ন রিং রোডের পাশে খালি জায়গা, কর্ণফুলী পশুর বাজার (নূর নগর হাউজিং এস্টেট), ৪০নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠ, ৩৯নং দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের আউটার রিং রোডস্থ সিডিএ বালুর মাঠ, ৪০নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া সাইলো রোডের পাশে টিএসপি মাঠ ও ৪১নং ওয়ার্ডের আলমগীরের বালির মাঠ ও ২৬ ওয়ার্ডের উত্তর হালিশহর গলাচিপাপাড়া বারুনিঘাট মাঠ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবাঁশখালীতে বজ্রপাতে মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু
পরবর্তী নিবন্ধসভাপতি আমিরুল হক, সি. সহসভাপতি আমজাদ হোসেন, সহসভাপতি মসিউল