চেয়ারে বসা নিয়ে দুই গ্রুপে সংঘর্ষ

স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীসভায় আহত ১০

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২ at ৪:২৯ পূর্বাহ্ণ

চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীসভায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে সংগঠনটির অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কাজীর দেউড়ি সংলগ্ন ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন হলে এ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।
আহতদের মধ্যে তিনজনের নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আলী আহমেদ সাগর নামে এক কর্মীর মাথা ফেটে গেছে। আহত রাশেদ নামে একজনকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষে আহত হন কোতায়োলী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কিং মোতোলেব। এছাড়া ছুরিকাঘাত হওয়া দুইজনের নাম জানা যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, সভা শুরু হওয়ার আগে থেকেই বিভিন্ন থানা থেকে আসা কর্মীরা চেয়ারে বসে পড়ে। পরে খুলশী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মীরা হলে প্রবেশ করে বসার জায়গা না পেয়ে হৈ চৈ শুরু করে। এসময় সেখানে চেয়ার ছোঁড়াছুঁড়ি হয়। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এর কিছুক্ষণ পর মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক ওয়াকিল হোসেন বগার অনুসারিরা একটি মিছিল নিয়ে কনভেনশন
হলের বাইরের মাঠে উপস্থিত হন। সেখানে আগে থেকে অবস্থানে ছিল নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তোফাজ্জল হোসেনের অনুসারিরা। এসময় পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে তা কাজীর দেউড়ি মোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। কনভেনশন হলের পাশে একটি শপিং মলের কাঁচও ভাঙা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে জড়িতদের হাতে লাঠিসোটা দেখা গেছে। একজনের হাতে ছুরিও দেখা গেছে। এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে কোতায়ালী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক কিং মোতালেব ব্যানার নিয়ে প্রবেশ করতে চাইলে একটি পক্ষ তাকে বাধা দেয়। তখন তার অনুসারিরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ ব্যাপারে আবুল হাশেম বক্কর দৈনিক আজাদীকে বলেন, জায়গার চেয়ে উপস্থিতি বেশি হয়েছে। সেজন্য একটু সমস্যা হয়েছে। তেমন বড় ঘটনা না।
স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান বলেন, হলের ভেতর আমরা আড়াই হাজার কর্মী বসার জন্য চেয়ারের ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু এর চেয়ে বেশি কর্মী চলে আসে। জায়গা সংকটের কারণে হয়তো একটু হট্টগোলের মত হয়েছিল। কিন্তু তা দুয়েক মিনিটের মধ্যে সমাধান হয়ে যায়। এর বাইরে অনুষ্ঠানস্থলে অন্য কোনো ঝামেলা হয়নি। বাইরে কি হয়েছে সে বিষয়ে আমি অবগত নই।
স্বেচ্ছাসেবক দল চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু বলেন, অনুষ্ঠানস্থলে কোনো সমস্যা হয়নি। বাইরে আলমাস সিনেমা হলের সামনে ঝামেলা হয়েছে শুনেছি। কারা করেছে জানি না।
কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল কবির আজাদীকে বলেন, রাস্তায় কোনো মারামারি হয়নি। ভেতরে কি হয়েছে জানি না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপৌরকরের অসঙ্গতি চিহ্নিত করতে গণশুনানি হবে
পরবর্তী নিবন্ধমাথা ন্যাড়া করে শিক্ষিকার প্রতিবাদ