কোভিডের নতুন প্রতিধরন বিএফ.৭’র ধাক্কায় কার্যত বেসামাল চীন। দেশটির জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের রিপোর্টে জানানো হয়, সম্প্রতি দেশটিতে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু এবার নতুন আশঙ্কার কথা জানাল কমিশন। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে চীনের বড় শহরগুলোতে কোভিড সংক্রমণ শিখর ছুঁতে পারে।
চীনের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল ঝেজিয়াং প্রদেশেই প্রতি দিন দশ লাখ মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হচ্ছেন। চীনের ‘আইফোন’ শহর বলে পরিচিত জেংঝাউ শহরেও সংক্রমণের হার গত দু’সপ্তাহের তুলনায় সর্বোচ্চ বলে জানা গিয়েছে। দেশের ৮০% অঞ্চলেই কোভিড ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে চীনের স্বাস্থ্য কমিশন।
গতকাল সোমবার আমেরিকার জনস্বাস্থ্য বিজ্ঞানী এরিক ফিঙ্গল ডিং ৫৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে চীনের সাম্প্রতিক কোভিড পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে এরিক লিখেছেন, শ্মশানের বাইরে দীর্ঘ লাইন। ভাবুন, নিজের প্রিয়জনের শেষকৃত্যের জন্য অপেক্ষা করাই শুধু নয়, তাদের দেহও বয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে। চীনের এই ভয়াবহ কোভিড পরিস্থিতিতে সহমর্মিতা দেখান। হংকংয়ের ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’ নামে একটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, চলতি মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত চীনে ২৪ কোটি ৬ লাখ আক্রান্ত হয়েছেন। চীনের ন্যাশনাল হেল্থ কমিশনের ফাঁস হওয়া রিপোর্টে তা বলা হয়েছে বলে দাবি ওই সংবাদমাধ্যমের। এদিকে চীনের স্বাস্থ্য কমিশন গতকাল ঘোষণা করেছে, রোববার
থেকে কোভিড–সংক্রমণ
সংখ্যার মতো কোনো তথ্য আর প্রকাশ করা হবে না। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য চীনের ‘সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’–এর তরফে জানানো হবে। তবে ‘প্রয়োজনীয় তথ্য’ বলতে তারা ঠিক কী বলতে চেয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, তা–ও জানানো হয়নি কোনও তরফেই।
অপরদিকে দেশটির সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন গতকাল সোমবার জানিয়েছে, শনিবার কোভিডের জেরে কোনো মৃত্যু হয়নি। এই নিয়ে টানা পাঁচ দিন জানানো হল, চীনের মূল ভূখণ্ডে করোনায় মৃত্যুর খবর নেই।
সংক্রমণের সকল রেখচিত্র পর্যালোচনা করে চীনের জাতীয় স্বাস্থ্য কমিশনের আশঙ্কা, জানুয়ারির মধ্যভাগে চীনের শহরে সব চেয়ে বেশি মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হবেন। তারপর আস্তে আস্তে কমবে সংক্রমণের হার। তবে গ্রামে সংক্রমণের হার নিম্নমুখী হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে ওই কমিশন।












