চারুলতা

শাহানা ইসলাম | বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:২৮ পূর্বাহ্ণ

আমার স্বপনে তুমি এসেছো হেঁটে সরু আলপথ পার করে

তোমার হাত ধরে আমি পায়ে পায়ে চলেছি

ঊষার আলোয় মোড়ানো মেঠো পথ ধরে!

বিস্তৃর্ণ অরণ্যে

প্রাচীন জটাধারী বটবৃক্ষের বাঁকলে মাথা ঠেঁকিয়ে

বাঁশিতে সুর তুলছে ক্লান্ত কৃষক।

মনের মাদল মেশানো বাঁশির সুরে পুলকিত প্রান্তর।

বিহঙ্গের কত কাব্য কথন!

সরু আলপথ পার করে ঘুঘুরের শব্দ তুলে শিশির ভেজা

ঘাসের বুকে আলতো আঁচড় দিয়ে পায়ে পায়ে চলছে কুমারী কন্যা!

দীঘল কালো কুন্তল উড়ছে উত্তরীয় হাওয়ায়!

নিশ্চুপ পাতারা করে ফিসফিস!

বুনো ফুলের মঞ্জুরীর বুক ছুঁয়ে যাওয়া ভ্রমণের গুন গুন শব্দ গেল থেমে।

নবীন মেঘের দল ঠাঁই দাঁড়িয়ে পাহাড়ের বুক ছুঁয়ে।

জলাশয়ে মুখ মেলে থাকা রঙিন পদ্মপাতার বুকে চুপটি মেরে

বসে থাকা ঘাসফড়িং অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে!

পানকৌড়ির ঠোঁটে লেগে থাকা আঁশের উপরে আলোর

রশ্মি পড়ে রুপোর মতো আদুরে ভঙ্গিতে চিকচিক করছে।

সারসের দল গ্রীবা বাঁকিয়ে দেখে লেবু রঙা

শাড়ির আঁচল উড়িয়ে পায়ে পায়ে চলছে কুমারী কন্যা।

ধবল জোছনার মত দু’পায়ে তাঁর আলতা মাখানো।

হরিণী দুচোখে জড়ানো তাঁর সপ্তষির আলো!

দীঘল দেহে জড়ানো জলপাই রঙের শাড়ি

টিকালো নাকে রুপোর নোলক। এলোচুলে গুঁজানো বুনোফুল

বাঁশুরীয়ার সুরের ধ্বনির পথ পার করে করে থমকে দাঁড়িয়ে

দেখেঅশ্বত্থের ডালে ঝুলে থাকা এক টুকরো মেঘ নদীর

জলে মুখ মেলে বলে আমাদের ভালোবাসা যায়নি মরে আজো,

তোমার সুরে আমাদের ভালোবাসা জমা রেখেছি নীল খামের পাঁজরে।

ওহে নদী বলো তোমার বুকে কি বয়ে চলে পালতোলা সাম্পান?

নতুন পাতার নলে বাঁশির সুর তুলে গেয়ে যাও কি প্রেমের গান?

ওহে নদী বলো তোমার গভীরে কি আছে বেলাভূমি?

আমি বাঁধিব খড়ের ঘর, বেতফলে ঢাকিব উঠোন।

জীবনের জল পাড়ি দিয়ে যাবে কি সূদুরে কংক্রিটের পথ পার করে!

পূর্ববর্তী নিবন্ধআমরা অতিথি পাখি
পরবর্তী নিবন্ধপ্রধান শিক্ষক বজলুল করিম চৌধুরী স্মরণে