চন্দনাইশ বিএনপি প্রার্থী জসিমের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়কের গাড়িতে গুলি

সাতকানিয়া প্রতিনিধি | শুক্রবার , ৯ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৯:২৯ অপরাহ্ণ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত ও দোয়ার বৈঠক হতে ফেরার পথে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব জসিম উদ্দীন আহমেদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ হাশেম রাজুর গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলাধীন কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের বাজালিয়া ইউনিয়নের বাজালিয়া বাসস্টেশন সংলগ্ন ভাঙা ব্রীজের পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে এম এ হাশেম রাজুর মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। 

পরে তাঁর (রাজু) পিএস মো. মহিউদ্দিনকে ফোন করলে তিনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে এম এ হাশেম রাজু উপস্থিত ছিলেন।

ওই অনুষ্ঠান শেষ করে তিনিসহ আমরা বেশ কয়েকজন চন্দনাইশে ফেরার পথে বাজালিয়া বাসস্টেশন সংলগ্ন ভাঙা ব্রীজের পূর্ব পাশে আমাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। একই সময় আমরা তিন রাউন্ড গুলির শব্দ শুনতে পেয়েছি। এ ছাড়াও ঘটনাস্থলের আশপাশে আমরা অন্তত ৫০ জন লোককে দেখতে পেয়েছি।

ঘটনার বিষয়ে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনের বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ জসিম উদ্দিন বলেন, রাজু ভাইকে বহনকারী গাড়িটি বাজালিয়া ভাঙ্গা ব্রীজের পার করলে ওই গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ ও গাড়ির পেছন থেকে গুলি করে।

অভিযোগ করে জসিম উদ্দিন বলেন, ৫০-৬০ জন সন্ত্রাসী রামদা ও কিরিচ নিয়ে হামলায় অংশ নেয়। এসময় তারা আমার নাম ধরে আমি গাড়িতে আছি কিনা চিৎকার করতে থাকে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করব। 

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া শিমুল বলেন, এ ঘটনাটি নিতান্ত তাদের ব্যক্তিগত ও সাজানো। এরকম বিষয় নির্বাচনী মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশকে ঘোলাটে করার অকৌশল ও সাধারণ ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা মাত্র ।

তিনি বলেন, তাদের অভিযোগ কতটুকু সত্য ও গ্রহণযোগ্য তা আমরা জেনেছি। তবুও গোয়েন্দা সংস্থা, বিভিন্ন এজেন্সি ও পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করলে থলের বিড়াল বের হয়ে আসবে। 

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রথমে তাঁরা দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেন। পরে জোটগত কারণে জামায়াত তাদের প্রার্থী সরালে এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক মনোনয়ন পান। তিনি দলটির সভাপতি কর্ণেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে। 

পূর্ববর্তী নিবন্ধকাল বেলায়েত উল্লাহ খান হাসানীর (রহ) ওফাত বার্ষিকী
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে ডজনখানেক মামলার আসামি ‘বুলেট’ সাঈদ গ্রেপ্তার