বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সদস্যরা গতকাল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। বন্দর চেয়ারম্যান ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত ও তার সফরসঙ্গীদের চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাগত জানান। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের সামপ্রতিক হ্যান্ডলিং রেকর্ড, জাহাজের টার্ন এরাউন্ড টাইম হ্রাস, ডুয়েল টাইম হ্রাস, পানগাঁও আইসিটি ও লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনালে বিদেশী অপারেটর নিয়োগ, বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে গ্রীণ টেকনোলোজি ব্যবহার, ডিজিটালাইজেশন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি প্রভৃতি বিষয়ে প্রতিনিধি দলকে অবগত করেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বন্দরের সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সম্ভাব্য চ্যলেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান জনবলকে আরো দক্ষ ও কারিগরী জ্ঞানে প্রশিক্ষিত করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতারও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরকে নির্মাণ শিল্প, উন্নত দেশের সাথে সরাসরি জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি, বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরী সুবিধা প্রদানসহ চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগী অংশীদার হিসেবে একত্রে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া গ্রীণপোর্ট তৈরি ও জিরো কার্বন নিঃসরণের ব্যাপারেও তিনি বন্দর চেয়ারম্যানকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি দলের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ওপর একটি প্রেজেন্টেশন প্রদান করা হয়। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সরেজমিনে পরির্দশন করেন এবং বন্দরের সার্বিক অগ্রগতি ও কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এই সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মোহাম্মদ মাহবুব আলম তালুকদার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ফার্স্ট কাউন্সিলর এডউইন ককবেক, ফার্স্ট সেক্রেটারি সেবাস্টিয়ান রিগো–ব্রাউন এবং অ্যাটাশে হুবার্ট বিন্স, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক, সচিব মোহাম্মদ আজিজুল মওলাসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধিদলটি প্রস্তাবিত লালদিয়া টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শন করে। যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশ ডেনমার্কের কোম্পানি এ পি মুলার–মার্স্ক লাইন ৮০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে লালদিয়া টার্মিনালটি নির্মাণ করার ব্যাপারে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। লালদিয়া টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ মোট ৩৯ দশমিক ১৫ একর জায়গা এপি মুলারকে বুঝিয়ে দিয়েছে।












