চট্টগ্রামে অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ১ লাখ ২৬ হাজার কৃষক মাঠের ফসল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জেলার চন্দনাইশ, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড, ফটিকছড়ি ও পটিয়াসহ বিভিন্ন উপজেলায় হাজার হাজার একর জমির আউশ ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। প্রায় ২৫ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন মাঠে কৃষকের আউশ ধান ক্ষতি হয়েছে বলে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ চূড়ান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চট্টগ্রামে চলমান আউশ ধান, আমনের বীজতলা, গ্রীষ্মকালীন সবজি, আদা, হলুদ ও পানের বাগানের প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার ৫২২ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার কৃষকের রোপিত আউশ ধান ক্ষতি হয়েছে। এসব ফসলের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ৫৯ হাজার কৃষকের গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাড়ে ১৪ হাজার কৃষকের আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবমিলে এবারের অতিবৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামে কৃষকদের মাঠের আউশ ধান, আমনের বীজতলা (আমনের চারা) ও গ্রীষ্মকালীন সবজির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২২২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. ওমর ফারুক। তিনি গতকাল শুক্রবার দৈনিক আজাদীকে জানান, এবারের বন্যায় চট্টগ্রামে উপজেলা পর্যায়ে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫২২ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও ফসলের ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩ হাজার ৬৯৬ জন কৃষককে আমনের বীজ দিয়েছি।
এছাড়াও আমরা হাটহাজারী এবং পটিয়ায় আমনের বীজতলা তৈরি করেছি। এখান থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে আমনের চারা দেয়া হবে। যাতে তারা আউশের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেন। এখন তো আর আউশের চারা রোপণের সুযোগ নেই। তাই তাদেরকে বিনামূল্যে আমানের বীজ এবং চারা দেয়া হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে ব্র্যাক এবং বিভিন্ন ওষুধ কোস্পানিগুলোকেও আমরা বলেছি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে আমনের বীজ দেয়ার জন্য। তারাও দেয়া শুরু করেছে।
চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. ওমর ফারুক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদেরকে আমনের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে তোলার চেষ্টা করছি আমরা।
জানা গেছে, আগস্ট থেকে আমন ধান রোপণ শুরু হবে। আর আগামী সেপ্টেম্বর থেকে আউশ ধান কাটা শুরু করবে কৃষকরা। এখন কৃষকদের একমাত্র ভরসা আমন ধানের চাষের দিকে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার কৃষকরা তাদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য সরকারি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে তাদের ক্ষতিগ্রস্ত আউশের প্রণোদনা, আমনের বীনামূল্যে বীজ ও সারের দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।












