চট্টগ্রামে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলছে লোডশেডিং। গত দুই সপ্তাহ ধরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দিনে পাঁচ থেকে থেকে ছয়বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। একেকবার বিদ্যুৎ গেলে আসে আধা ঘণ্টা থেকে দেড় ঘণ্টা পর। কিছু কিছু এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ আসা–যাওয়া করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ।
জানা গেছে, দেশে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। একটি পরিচালনা করে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি ও অন্যটি সামিট এলএনজি টার্মিনাল। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে এলএনজি সরবরাহের একটি টার্মিনাল বন্ধ হওয়ায় গ্যাসের সংকট প্রকট হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহের মূল সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড পিএলসি বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। তাদের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে মোট বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ২৩টি। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ উৎপাদন সক্ষমতা ৪ হাজার ৮৯৮ মেগাওয়াট। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোয় উৎপাদন কমলেও তুলনামূলকভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বেড়েছে। চট্টগ্রামের রাউজান তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিট স্থায়ী ভাবেই বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোর মধ্যে দুই–তিনটি ছাড়া অন্য সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে কম–বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোতে উৎপাদন হয়েছে সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার ৩০২ মেগাওয়াট। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পর জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না চট্টগ্রাম। গতকাল সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৪১৫ মেগাওয়াট। আর সকালে চাহিদা ছিল ১২৮৭ মেগাওয়াট।
পিডিবি চট্টগ্রামের দপ্তর থেকে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া গেছে ৯৫০ মেগাওয়াট। ঘাটতি ছিল ৩০০ মেগাওয়াট।
এই ব্যাপারে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পশ্চিম) একেএম মামুনুল বাশরী আজাদীকে জানান, লোডশেডিংয়ের অবস্থা এখনো পরিবর্তন হয়নি। আগের মতোই আছে। চট্টগ্রামে আজকে (গতকাল মঙ্গলবার) সকালে লোডশেডিং ছিল ১৫০ মেগাওয়াট। সন্ধ্যায় কিছুটা কমে ১১০ মেগাওয়াট ছিল। আমাদের আজকে মঙ্গলবার (গতকাল) চাহিদা যত বরাদ্দ তার চেয়ে কিছুটা কম। চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলোতে উৎপাদনও আগের মতো। আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে যা উৎপাদন হয়–তা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে চলে যায়। গ্রিড থেকে বরাদ্দ হয়। গ্যাস সংকটের কারণে আমাদের কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমেছে। প্রাইভেট বেশ কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনও কমেছে। আমাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র গুলোর জন্য গ্যাসের যত চাহিদা তত পাওয়া যাচ্ছে না। এটা সারাদেশেই হচ্ছে।
পিডিবি চট্টগ্রাম অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় চট্টগ্রামে লোডশেডিং করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তারা। গত সোমবার চট্টগ্রামে প্রায় তিনশ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং ছিল। গতকাল কিছুটা কমে সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ১৫০ মেগাওয়াট লোডশেডিং ছিল বলে পিডিবির সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী জানিয়েছেন। তবে বিদ্যুতের পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে, তা বলতে পারছেন না পিডিবি চট্টগ্রামের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।












