ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্সের (এমএসএফ) সহযোগিতায় ‘ডেঙ্গু নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার’ বিষয়ক এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সকালে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সমন্বয় সভায় সভাপতিত্ব করেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি।
এ সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রামের মানুষকে নিরাপদ ও ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। তবে এর জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ডেঙ্গু বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এটি মোকাবিলায় সরকার এবং বেসরকারি সংস্থা এমএসএফ একসঙ্গে কাজ করছে। ভেক্টরবাহিত রোগ প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য বিভাগ, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এবং এমএসএফের মধ্যে ইতোমধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি চারটি বাড়ির মধ্যে একটিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে। গত জুনে চট্টগ্রাম বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৪০৫ জন। চলতি জুলাইর দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে ৪৮৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতি শনিবার স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাসাবাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ফুলের টব, পানির জার বা যেকোনো পাত্রে যাতে পানি জমে না থাকে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। সভায় চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এমএসএফসহ অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত কার্যক্রম প্রয়োজন। এমএসএফের মেডিকেল টিম লিডার ডা. ফ্রান্সিসকো রাউল ডি. সালভাদর ও মেডিকেল যোগাযোগ কর্মকর্তা ডা. ফাতেমা ফেরদৌসীর সঞ্চালনায় সভায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, বিআইটিআইডির পরিচালক ডা. ইফতেখার আহমদ, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের উপ–পরিচালক ডা. কমরুল আযাদ, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. একরাম হোসেন, বেসরকারি হাসপাতাল–ক্লিনিক–ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল মোত্তালিবসহ স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।












