চট্টগ্রামের দাপটে পিষ্ট ঢাকা

বিপিএল । রংপুরের কাছে হারল সিলেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক | শনিবার , ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:২১ পূর্বাহ্ণ

ব্যাটিং স্বর্গ উইকেটে ম্যাচের শুরুতেই দেখা গেল উল্টো চিত্র। চট্টগ্রামের শরিফুল ইসলাম, তানভির ইসলামদের বোলিংয়ে নাজেহাল ঢাকার একের পর এক ব্যাটার। আর উইকেট যে আসলে ব্যাটিং উপযোগী তার প্রমাণ হয়ে গেল ম্যাচের পরের ভাগেই। ঢাকার ১২২ রান স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও অ্যাডাম রসিংটন।

বিপিএলে গতকাল শুক্রবারের প্রথম ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে দেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস। এবারের মৌসুমের প্রথম ১০ উইকেটের জয় এটি। ৪০ বলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন নাঈম। নিলামে কোটি টাকা পাওয়া একমাত্র ক্রিকেটারের এই আসরে প্রথম ফিফটি এটি। তার সঙ্গী রসিংটন মাঠ ছাড়েন ৩৬ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থেকে।

উইকেটের সামনে ঝড় তোলার আগে রসিংটন দারুণ কীর্তি গড়েন উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে। চারটি স্টাম্পিং করে চট্টগ্রামের কিপার স্পর্শ করেন বিশ্বরেকর্ড। বিপিএলে এক ইনিংসে চার স্টাম্পিং এটিই প্রথম। রসিংটনের চার স্টাম্পিংয়ের দুটি তানভির ইসলামের বলে, দুটি শেখ মেহেদি হাসানের বলে। চার ওভারে মাত্র আট রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তানভির। নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ঢাকার দুই ওপেনারকে ফেরানো শরিফুল ইসলামও উইকেট নেন তিনটি। ঢাকার ভোগান্তির শুরুর ম্যাচের শুরু থেকেই। প্রথম ওভারে শরিফুলে বলে জঘন্য এক শটে উইকেট হারান সাইফ হাসান। আগের দুই ম্যাচে ১ ও ৯ রানের পর এবার বাংলাদেশের টিটোয়েন্টি অধিনায়ক ফেরেন ১ রানে। আরেকপ্রান্তে জুবাইদ আকবারিকে মনে হচ্ছিল যেন শিক্ষানবিশ কোনো ক্রিকেটার। আফগান ব্যাটার ফেরেন ১২ বলে ২ রান করে। তিনে নামা উসমান খান চেষ্টা করছিলেন পাল্টা আক্রমণের। তার ইনিংস শেষ হয় তানভিরের স্পিনে রসিংটনের দুর্দান্ত স্টাম্পিংয়ে। তিনি ১৫ বলে ২১ রান করেন। আগের দিন ৪৩ বলে ৮১ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলা শামীম হোসেনও ফেরেন রসিংটনের ক্ষীপ্রতায়। ৭ বলে মাত্র ৪ রান করেন তিনি।

দলের বিপর্যয়ে ঢাল হতে পারেননি অধিনায়ক মিঠুন। ১২ বলে ৮ রান করে বিদায় নেন তিনি। শেখ মেহেদিকে একটি ছক্কা মারার পর তাকেই উইকেট উপহার দেন সাব্বির রহমান ৮ বলে ৯ রান করে। ইমাদ ওয়াসিমকে (৮ বলে ৯) স্টাম্পিং করে রসিংটন করেন রেকর্ড। ৬৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে তখন কাঁপছে ঢাকা। সেখান থেকে নাসির হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিনের জুটি দলকে শতরান পেরিয়ে আরেকটু এগিয়ে নেয়। ৬ ওভারে ৪৮ রানের জুটি গড়েন দুজন। নাসির ফেরেন ২০ বলে ১৭ রান করে। ২৫ বলে অপরাজিত ৩৩ রান করে দলকে ১২০ পার করান সাইফ উদ্দিন।

জবাবে নাঈম ও রসিংটন পাত্তাই দেননি ঢাকার বোলিংকে। অনায়াসেই রান বাড়িয়ে দলকে জয়ের দিকে নিয়ে যান দুজন। রসিংটন অবশ্য একটি সুযোগ দিয়েছিলেন ২৪ রানে। সাইফ উদ্দিনের বলে ক্যাচটি নিতে পারেননি ইমাদ। এরপর আর কোনো সুযোগ দেননি তারা। ৩৪ বলে ফিফটিতে পৌঁছান নাঈম, ৩১ বলে রসিংটন। এরপর কাজ শেষ করেও আসেন দুই ওপেনার। ম্যাচ শেষ করে দেন দুজন ৪৪ বল আগেই। ম্যাচ সেরা হন চট্টগ্রামের রসিংটন।

দিনের অন্য ম্যাচে রংপুর রাইডার্স ৬ উইকেটে সিলেট টাইটান্সকে হারিয়েছে। সিলেটের করা ১৪৪ রান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও খুশদিল শাহ’র শেষের ঝড়ে রংপুর ৭ বল বাকি থাকতেই তুলে নেয়। আগের দিন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে প্রায় জিততে জিততেও হেরেছে রংপুর। এজন্য অনেকের কাঠগড়ায় উঠেছেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ বলে তিনি রানআউট হওয়ায় ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় সুপার ওভারে। পরদিনই ব্যাট হাতে সেই সমালোচনার জবাবটা দেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক এই তারকা। সিলেটের দেওয়া লক্ষ্য তাড়ায় ১৬ বলে ৩৪ রান করে তিনি ম্যাচ সেরার পুরস্কারও জিতেছেন।

সিলেটের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রংপুরের শুরুটা ছিল ধীরগতির। ৪.১ ওভারে ২১ রান তুলতেই তারা ওপেনার ডেভিড মালানকে (১৯) হারায়। তাওহীদ হৃদয় এসে ১১ বলে ৬ রানে বোল্ড হন নাসুম আহমেদের বলে। রান তুলতে সংগ্রাম করতে হয়েছে কাইল মায়ার্সকেও। আউট হওয়ার আগে ২৯ বলে ৩১ রান করেন এই ক্যারিবীয় ব্যাটার। মাঝে প্যাভিলিয়নে ফেরেন লিটন, ২৫ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ৩৫ রান করেন জাতীয় দলের এই অধিনায়ক। মায়ার্স আউট হওয়ার সময় ৩১ বলে ৫১ রান দরকার ছিল রংপুরের। রিয়াদখুশদিল মিলে জুটি গড়লেনও ৫১ রানের। রিয়াদ শেষ পর্যন্ত ১৬ বলে ৫ চার ও এক ছক্কায় ৩৪ এবং খুশদিল ১১ বলে ১৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। বিপরীতে সিলেটের হয়ে একটি করে উইকেট শিকার করেন খালেদ আহমেদ, সাইম আইয়ুব, নাসুম আহমেদ ও ইথান ব্রুকস।

এর আগে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি স্বাগতিক সিলেট। ২০ ওভারে ৮ উইকেটের বিনিময়ে ১৪৪ রান করে মেহেদী হাসানের মিরাজের দল। আফিফ হোসেন ধ্রুব ৩১ বলে সর্বোচ্চ ৪৬ এবং ব্রুকস ৩২ রান করেন। আর কেউই বলার মতো কিছু করতে পারেননি। বিপরীতে রংপুরের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট শিকার করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও ফাহিম আশরাফ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিএনপির জোয়ারের দিনে আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী, আক্ষেপ রুমিন ফারহানার
পরবর্তী নিবন্ধউঁকি দেওয়ার অপেক্ষায় বছরের প্রথম সুপারমুন