দেশের স্বার্থে, জাতীয় স্বার্থে এবং গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি বলেন, জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে বিভিন্ন মত ও আদর্শের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছেন। দেশের স্বার্থে এই ঐক্য ভবিষ্যতেও অটুট রাখতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশ, গণতন্ত্র এবং জাতীয় স্বার্থের প্রশ্নে আমাদের সবাইকে এক কাতারে দাঁড়াতে হবে।
চবি প্রশাসনের উদ্যােগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত ৫ আগস্ট দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মরণ চত্বরে অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করেন চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্–ফোরকান। এরপর বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর থেকে চবি সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ও প্রধান বক্তা ছিলেন চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্–ফোরকান। সভাপতিত্ব করেন উপ–উপাচার্য (একাডেমিক) ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল–আমীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন উঠছে, জুলাই–আগস্টের গণহত্যা ও দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের অপরাধীদের বিচার কতদূর এগিয়েছে। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে দেশের মানুষের প্রতি জবাবদিহিতা সর্বোচ্চ। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই জুলাই–আগস্টের গণহত্যা এবং পূর্ববর্তী ১৭ বছরের খুন, গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের আওতায় সুষ্ঠু ও সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করা হবে। সেই বিচার হবে ন্যায়ভিত্তিক, নিরপেক্ষ এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।
উদ্বোধক ও প্রধান বক্তা চবি উপাচার্য বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বৈষম্যহীন, শান্তিপূর্ণ ও সহাবস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। উপাচার্য জুলাইয়ে চবির দুই শহীদ ফরহাদ ও তরুয়াসহ সকল শহীদকে স্মরণ করেন।
আলোচনা সভা ও সেমিনারে ইতিহাসের আয়নায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান : ভাবাদর্শের রূপান্তর ও বাস্তবতার অভিঘাত শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চবি ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ও বিশ্ববিদ্যালয় জাদুঘরের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাহিদুর রহমান। আলোচনা করেন ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর জেরীন চৌধুরী ও রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান হলের প্রভোস্ট এ জি এম নিয়াজ উদ্দিন। অনুষ্ঠানে চবির শহীদ হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার বাবা রতন চন্দ্র তরুয়া ও শহীদ ফরহাদ হোসেনের বড় ভাই গোলাম কিবরিয়া বক্তব্য দেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।












