খাল দখলদারদের স্বেচ্ছায় সরে যেতে হবে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা

দক্ষিণ পাহাড়তলীতে খনন কার্যক্রম উদ্বোধনে মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ২৫ জুন, ২০২৬ at ৬:০২ পূর্বাহ্ণ

নগরের খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, খাল দখলদারদের স্বেচ্ছায় সরে যেতে হবে, অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি গতকাল বুধবার সকালে নগরের দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুলুনিয়া ঢালা ছড়া পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন। এদিন মেয়র খাগড়িয়া ছড়া এবং খোশাল শাহ ছড়া পরিদর্শন ও পুনঃখনন কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করেন।

এ সময় ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ সচল রাখতে চলমান খালছড়া পুনঃখনন কার্যক্রম নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, খাল ও ছড়াগুলো নগরবাসীর সম্পদ। এসব জলাধার দখল ও দূষণের কারণে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। এছাড়া যারা খালছড়া দখল করে রেখেছেন, তাদের স্বেচ্ছায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান মেয়র।

তিনি আরও বলেন, অনেক স্থানে খালের ওপর স্থাপিত স্ল্যাব ও অবকাঠামো পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে পুরো খাল ব্যবস্থাকে পরিষ্কার ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক জলাবদ্ধতার কারণ শনাক্ত করে পরিকল্পিতভাবে কাজ চলছে।

মেয়র বলেন, নগরের ৪০টি খাল পুনঃখনন ও রক্ষণাবেক্ষণে ডিপিপি প্রণয়নের কাজ চলছে। এর আওতায় খাগড়িয়া ছড়া, খোশাল শাহ ছড়াসহ গুরুত্বপূর্ণ জলাধারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। খালগুলোর গভীরতা বৃদ্ধি, রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং আধুনিক ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডা. শাহাদাত বলেন, হালদা নদীকে রক্ষা করতে হলে এর সঙ্গে সংযুক্ত খালছড়াগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। দীর্ঘদিনের অবহেলায় অনেক খাল ও ছড়া নাব্যতা হারিয়েছে। আমরা ধাপে ধাপে এসব জলপথ পুনরুদ্ধার করে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে চাই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, চলমান খনন ও সংস্কার কাজের মান তদারকিতে এলাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও নকশা অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধনকল পাওয়া গেলে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী