খামার থেকে জ্বালানির জোগান

রাউজানের কদলপুর

রাউজান প্রতিনিধি | শুক্রবার , ২৩ এপ্রিল, ২০২১ at ৭:০২ পূর্বাহ্ণ

রাউজানের কদলপুর গ্রামের বাসিন্দা দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য। নিজের পোলট্রি খামারে সৃষ্ট বর্জ্য ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠা করেছেন বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট। দেবাশীষের বায়ুগ্যাস এখন গ্রামের জ্বালানির উৎস। এই প্ল্যান্টে উৎপাদিত গ্যাস পাচ্ছে প্রায় ৩০টি পরিবার।
প্ল্যান্টের উদ্যোক্তা দেবাশীষ একজন ডিপ্লোমা প্রকোশলী। তিনি কাপ্তাই সুইডিশ-বাংলাদেশ পলিটেকনিকেল ইনস্টিটিউটের ছাত্র। চাকরির পেছনে না ঘুরে ২০০৮ সালে স্থানীয় বন্ধু ইউপি সদস্য কমল ও প্রণব চক্রবর্তীকে নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন খামারটি। প্রায় দেড় লাখ টাকায় দুই হাজার মুরগির বাচ্চা নিয়ে শুরু হয়েছিল খামারের যাত্রা। কিন্তু তিন বছরেও আসেনি সফলতা। এর মধ্যে বন্ধুরা পোলট্রি খামারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।
খামার বন্ধ হয়ে গেলে দেবাশীষ চাকরি নেন একটি বেসরকারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে। সেখানে ছয় বছর চাকরি করেন। পরে আবারও খামারে বিনিয়োগ করেন তিনি। নতুন করে দেখেন স্বপ্ন। এবার এককভাবে গড়ে তুলেন খামার। শুরু হয় সফলতার পর্ব। বর্তমানে দেড় একর জমির উপর রয়েছে ১০ হাজার লেয়ার ও পাঁচ হাজার ফুলেট মুরগির খামার। প্রতিদিন উৎপাদন হয় প্রায় আট হাজার ডিম। খামার থেকে সৃষ্ট বর্জ্য ব্যবহার করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন বায়োগ্যাস প্লান্ট।
দেবাশীষ আজাদীকে বলেন, বর্তমানে গ্রামের তিনটি পরিবার থেকে মাসে এক হাজার টাকা করে পাচ্ছি। নিজের বায়োগ্যাস প্ল্যান্টকে আরো বড় করার স্বপ্ন দেখি। ইচ্ছে আছে বায়োগ্যাসের বর্জ্য থেকে জৈব সার তৈরির। এই খাত থেকেও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে সোয়া কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে উল্লেখ করে দেবাশীষ জানান, নিজের পুঁজি ছাড়াও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন।
তবে সেজন্য দিতে হচ্ছে চড়া সুদ। সরকারি ব্যাংক স্বল্প সুদে ঋণ পেলে তার প্রতিষ্ঠান আরো এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদী তিনি। সফলতার পেছনে বাবা অনন্ত ভট্টাচার্য্য, ছোট ভাই চন্দ্রশীষ ও শুভাশীষের অনুপ্রেরণা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেবাশীষ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবয়স নিয়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের হয়রানি করা হচ্ছে
পরবর্তী নিবন্ধএইচএসসিতে বৃত্তির তালিকা প্রকাশ