বৈশাখের তপ্ত দুপুরে প্রকৃতিতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে রঙিন ফুল। কৃষ্ণচূড়া, সোনালু আর জারুলের ভিড়ে এখন আলাদা করে দৃষ্টি কাড়ছে ‘লাল সোনাইল’। নামের সঙ্গে ‘লাল’ থাকলেও এই ফুলে ফুটে ওঠে কোমল গোলাপি আভা, যা দূর থেকেই পথচারীদের বিমোহিত করে। খাগড়াছড়ি–চট্টগ্রাম মহাসড়কের জিরো পয়েন্ট এলাকা পার হলেই চোখে পড়ে হর্টিকালচার পার্কের বিপরীতে অপরাজিতা বৌদ্ধবিহারের সীমানাঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা গাছটি। ছাতার মতো বিস্তৃত ডালপালায় এখন থোকা থোকা গোলাপি ফুল। উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম ঈধংংরধ লধাধহরপধ, যা অনেকের কাছে ‘পিংক কাসিয়া’ বা ‘পিংক শাওয়ার’ নামে পরিচিত।
২০২০ সালে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের তৎকালীন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সবুজ চাকমা এই গাছটি রোপণ করেন। তার উদ্যোগেই সড়কের পাশে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য জাকারান্ডা, লাল সোনাইল ও সোনালুসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়। বর্তমানে রাঙামাটি সড়ক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তা বলেন, ফুলের রং পিংক হওয়ায় এটি দূর থেকেই মানুষের নজর কাড়ে। পাহাড়ি এলাকায় আগে থেকেই এ গাছ দেখা গেলেও এখন তা নতুনভাবে মানুষের নজর কাড়ছে।
নিসর্গবিষয়ক লেখক মোকারম হোসেন জানান, নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা এই ফুলের নামকরণ করেছিলেন ‘লাল সোনাইল’। তিনি বলেন, গ্রীষ্মের শুরুতে কচি পাতার সঙ্গে গোলাপি ফুলের মেলা প্রকৃতিকে ভিন্ন মাত্রা দেয়। প্রায় তিন সেন্টিমিটার চওড়া এই সুগন্ধি ফুলের পাপড়ির বিন্যাস বেশ আকর্ষণীয়।
খাগড়াছড়ির পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বায়োডাইভারসিটি কনজারভেশন সোসাইটি অব সিএইচটি’র সংগঠক সাথোয়াই মারমা বলেন, খাগড়াছড়ি শহরজুড়ে কৃষ্ণচূড়া ও সোনালুর মতো লাল সোনাইলও মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। তবে গাছের সংখ্যা এখনো কম। গ্রীষ্মের এই সময়ে পাহাড়ের পথে পথে যেন ফুলের মিছিল বসেছে, আর তাতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই লাল সোনাইল।
সৌন্দর্যে অনন্য হলেও লাল সোনাইল এখনো কৃষ্ণচূড়ার মতো সর্বত্র বিস্তৃত নয়। তবে দ্রুত বর্ধনশীল ও দৃষ্টিনন্দন হওয়ায় প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে দিন দিন এই ফুলের জনপ্রিয়তা বাড়ছে।














