কোটি টাকার ব্রিজে ১০ বছরেও হয়নি সংযোগ সড়ক

রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা । ৩০ বছর ধরে সংস্কারহীন ৩ সড়ক

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | রবিবার , ২১ জুন, ২০২৬ at ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ

প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২৪ ফুট দীর্ঘ কংক্রিটের ব্রিজ। কিন্তু দুই পাশে নেই কোনো সংযোগ সড়ক। দূর থেকে দেখলে মনে হবে কোনো পরিত্যক্ত স্থাপনা। নিজেদের উদ্যোগে বালুর বস্তা দিয়ে কোনোমতে ব্রিজে ওঠানামার ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয়রা।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম সরফভাটা ছনাগাজী এলাকা থেকে মৌলানা গ্রামমুখী সড়কে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে ২০১৫২০১৬ অর্থবছরে এই ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে ব্রিজ নির্মাণের এক দশক পেরিয়ে গেলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক তৈরি হয়নি।

শুধু এই ব্রিজের সংযোগ সড়কই নয়, এলাকার দীর্ঘ বছরের অবহেলিত প্রধান তিনটি সড়ক সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় সহস্রাধিক পরিবারের কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরফভাটা ২ নং ওয়ার্ডের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটি রাস্তামাওলানা বাজার রোড, দরবারে নেছারিয়া রোড এবং পাইট্টেলীকুল রোড গত ৩০ বছরেও কোনো প্রকার উন্নয়ন বা সংস্কারের মুখ দেখেনি। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা ও বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে এই সড়কগুলো।

স্থানীয়রা জানান, সড়কগুলোর অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে, নিত্যদিনের যাতায়াত এখন সাধারণ মানুষের জন্য নরকযন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় পশ্চিম সরফভাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আব্দুল কাদের জিলানী মাদ্রাসা ও নেছারিয়া মাদ্রাসার শত শত ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষকদের প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। কোনো ধরনের যানবাহন প্রবেশ করতে না পারায় মুমূর্ষু রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বড় মানবিক বিপর্যয় ঘটে কোনো মানুষ মারা গেলে। রাস্তা ভাঙা ও অত্যন্ত সরু হওয়ায় জানাজার পর লাশ বহনের খাটিয়া কবরস্থানে নিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা নেই এখানে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছনাগাজী থেকে মৌলানা গ্রামমুখী সড়কটির মাঝ বরাবর ব্রিজটি নির্মাণ করা হলেও এর দুই পাশের সড়কের অস্তিত্ব এখন বিলীন হওয়ার পথে। সংযোগ সড়ক না থাকায় পাশের খালের ভাঙনে ইতিমধ্যেই বিদ্যমান কাঁচা সড়কটির অর্ধেক অংশ ভেঙে পড়েছে। বর্ষাকালে খালের পানি উপচে পুরো রাস্তা প্লাবিত হয়। জোয়ারের পানিতেও নিয়মিত প্লাবিত হয় সড়কটি। স্থানীয় শিশু ও বৃদ্ধরা প্রায় এই কর্দমাক্ত ও পিচ্ছিল সড়কে চলতে গিয়ে পাশের খালে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এলাকাটিতে এই ধরনের আরও দুটি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দেখা গেছে। যেগুলো বেশ জরাজীর্ণ এবং ফাটল ধরেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কটির কোথাও কোথাও বালুর বস্তা দিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করেছেন।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আমিনুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী জালাল উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রিজ হওয়ার পর ১০ বছর পার হয়ে ২০২৬ সাল চলে এলো, কিন্তু আমাদের সড়কের ভাগ্যবদল হলো না। শুনলাম দুইবার টেন্ডার হয়েছে, কিন্তু মাত্র ৩০০ মিটারের এই সড়কটুকু কেন করা হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান চাই।

এদিকে সংযোগ সড়ক না হওয়ার পেছনে ঠিকাদারি জটিলতার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিধিরা। তাদের দাবি, সড়কটি নির্মাণের জন্য কয়েকবার টেন্ডার প্রক্রিয়া আহ্বান করা হলেও কোনো ঠিকাদার কাজটি করার আগ্রহ দেখাননি। তবে কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে, নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার ও সংযোগ সড়ক সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই ওয়ার্ডের তিনটি সড়ক আরসিসি ঢালাইকরণ, সংযোগ সড়ক নির্মাণে দ্রুত বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ব্যাপারে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, সড়কগুলো সংস্কারে সরেজমিন পরিদর্শন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকাপ্তাইয়ে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য অপসারণে সেনাবাহিনীর অভিযান
পরবর্তী নিবন্ধনগরীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিল, পুলিশের হাতে আটক ৪