কানে ‘স্বর্ণপাম’ জিতল ফিওড

জয় হল সহনশীলতা-সহমর্মিতার গল্পের

| সোমবার , ২৫ মে, ২০২৬ at ৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ

ফ্রান্সের সাগর পাড়ে কান চলচ্চিত্রের ৭৯তম আসরে জুরিদের বিচারে সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘স্বর্ণপাম’ জিতেছে রোমানিয়ান পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান মুঙ্গিউর সিনেমা ‘ফিওড’। বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় ‘ফিওড’ বানিয়েছেন মুঙ্গিউ। উৎসবজুড়ে ‘ফিওড’ এর চিত্রনাট্যের জন্য ছিল আলোচনার কেন্দ্রে, যদিও সমালোচকদের কাছে সিনেমাটি খুব একটা পছন্দের ছিল না। ভ্যারাইটি, বিবিসি জানিয়েছে, এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ‘স্বর্ণপাম’ জিতলেন মুঙ্গিউ। ২০০৭ সালে তার সিনেমা ‘৪ মান্থস, ৩ উইকস অ্যান্ড ২ ডে’ জিতেছিল স্বর্ণপাম। খবর বিডিনিউজের।

উৎসবের মূল ভবনে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে প্যালে ডে ফেস্টিভালে আসরের সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের সব বিচারক এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন সেখানে। কান চলচ্চিত্র উৎসব এবার শুরু হয় গত ১২ মে। এবারে স্বর্ণপাম জেতার লড়াইয়ে প্রতিযোগিতা করেছে ২২টি সিনেমা।

ফিওড’এর গল্প আবর্তিত হয়েছে এক রোমানিয়ান পরিবারকে ঘিরে। তারা নতুন জীবন শুরু করতে যায় নরওয়ের এক ছোট গ্রামে। প্রথমে পরিবারটির জীবনে স্বাভাবিক ছন্দ থাকলেও ধীরে ধীরে স্থানীয় সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। এক সময় শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে পরিবারটির বিরুদ্ধে। রাষ্ট্র তাদের এক সন্তানকে নেয় হেফাজতে। পুরো পরিস্থিতি পরিবারটিকে ঠেলে দেওয়া হয় এক দুঃস্বপ্নের মধ্যে; সেই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন।

কানের মঞ্চেপাম পুরস্কার গ্রহণ করার সময় মুঙ্গিউ স্বভাবসুলভভাবেই বিনয়ী ছিলেন। তিনি বলেন, ‘এটি সহনশীলতা, অন্তর্ভুক্তি ও সহমর্মিতার গল্প। আমরা সবাই এসব মূল্যবোধকে ভালোবাসি এবং শ্রদ্ধা করি। আমাদের বাস্তব জীবনে এসবের প্রয়োগ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি সব পুরস্কারই প্রাসঙ্গিকতার ওপর নির্ভরশীল। আপনারা যে আমাকে এই পুরস্কারটি দিয়েছেন, তা আমাদের জন্য নিঃসন্দেহে চমৎকার এবং আমরা খুব খুশি।’ তার কথায়, এ ধরনের সিনেমা দেখার জন্য ১০২০ বছর অপেক্ষা করতে হয়।

উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান গ্রাঁ প্রি জিতেছে ‘মিনোটর’; সিনেমাটি বানিয়েছেন রুশ নির্মাতা আন্দ্রেই জভিয়াগিনতসেভ। পেট্রোভিচ জাভ্যাগিনসেভের প্রত্যাবর্তনও এবারের উৎসবের বড় ঘটনা হিসেবে দেখা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাউজান ও আগুয়ান ক্লাবের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা
পরবর্তী নিবন্ধরাখাল দাশগুপ্ত