কাউন্সিলর বেলালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

ওয়ার্ড আ. লীগ নেতাদের সংবাদ সম্মেলন ।। যারা অভিযোগ করেছেন তাদের নিয়ে অভিযোগ জমা আছে : বেলাল

আজাদী প্রতিবেদন | রবিবার , ৩ এপ্রিল, ২০২২ at ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ

নগরীর ১৪ নং লালখান বাজার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি আবুল হাসনাত মো. বেলালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ক, খ ও গ ইউনিট সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কাউন্সিলর বেলালের বিরুদ্ধে ‘নেতাকর্মীদের নিপীড়ন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও টিসিবির পণ্যের কার্ড বিতরণে অনিয়মসহ’ নানা অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ‘গ’ ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সমীর দাশ বলেন, আবুল হাসনাত বেলাল কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর বেপরোয়া হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক নির্যাতন ও মামলা-হামলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। গত এক বছরে ওয়ার্ডের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে শুধুমাত্র ক্রোধের বশবর্তী হয়ে শত শত দলীয় কর্মী ও সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে এক ডজনেরও বেশি মামলা দায়ের করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওয়াসা মোড় এলাকায় মুনতাসির ভবনসহ ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে মদ ও জুয়ার আসর বসানো হচ্ছে। এতে পুরো এলাকায় সামাজিক অবক্ষয়, ছিনতাই, চুরি, রাহাজানিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় সাধারণ জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের অব্যাহত চাপের মুখে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানালে মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতেই কাউন্সিলর বেলাল অশোভন আচরণ ও হুমকি দেন। এছাড়া কাউন্সিলর বেলালের উপস্থিতিতে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। তার কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করা হবে।
‘গ’ ইউনিটের সভাপতি নুরুল আলম বলেন, কাউন্সিলর হওয়ার পর তিনি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। উনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি পদে আছেন। উনাকে তো আওয়ামী লীগের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, লালখান বাজার এলাকার অধিকাংশ দরিদ্র পরিবার টিসিবির পণ্যের জন্য কার্ড পেতে বারবার ওয়ার্ড অফিসে ধন্না দিলেও পায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুম ও তার অনুসারী ইউনিটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিক আহমেদ উপস্থিত ছিলেন না। মাসুম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকলেও ছিলেন শ্রোতার সারিতে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ‘ক’ ইউনিটের সভাপতি শফিউল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, ‘খ’ ইউনিটের সভাপতি এস এম ইব্রাহিম ও সাধারণ সম্পাদক আসলাম হোসেন মাসুম।
অভিযোগ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মো. বেলাল আজাদীকে বলেন, কাউন্সিলর নির্বাচন হয়েছে দেড় বছর আগে। যোগ্যতা এবং রাজনৈতিক ত্যাগের কথা বিবেচনা করেই আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। ভোটের দিন লালখান বাজারে পরিস্থিতি সম্পর্কে সকলেই জানেন। ইভিএমে ভোট হয়েছে। মানুষ ইভিএমে নিজের ভোট নিজে দিয়েছেন। আজকে তারা আমার নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে।
তিনি বলেন, টিসিবির পণ্যের কার্ড তো মানবিক বিবেচনায় এবং মানুষ বিবেচনায় দেয়া হয়, রাজনৈতিক বিবেচনায় দেয়া হয় না। আর টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড ইচ্ছে করলে যে কাউকে দেয়া যায় না। এগুলো প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে হিসেব দিতে হয়। যারা ইউনিট আওয়ামী লীগ পরিচয় দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এসব ইউনিট নিয়ে রিভিউ কমিটির কাছে অভিযোগ জমা আছে। এখনো এগুলো অনুমোদিত হয়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএখন সেই ভয় উদ্বেগ নেই করোনাও নিয়ন্ত্রণে
পরবর্তী নিবন্ধযানজট নিরসনে সিএমপির একগুচ্ছ পরিকল্পনা