কফিনবন্দি হয়ে দেশে ফিরলেন লিমন

গ্রামে দাদুর কবরের পাশে চিরশায়িত

আজাদী ডেস্ক | মঙ্গলবার , ৫ মে, ২০২৬ at ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ দেশে ফিরেছে। গতকাল সোমবার সকাল ৮টা ৫৯ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষায় ছিলেন প্রিয়জনের নিথর দেহ গ্রহণের জন্য।

এর আগে শনিবার রাত ৯.৫০ মিনিটে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এমিরাটসের একটি ফ্লাইটে লিমনের কফিন তুলে দেওয়া হয় বলে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছিল।

গতকাল বিমানবন্দরের কার্গো গেটে পরিবারের সদস্যদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। লিমনের বাবা জহুরুল হক ছেলের মরদেহ দেখে ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে গিয়ে এভাবে কারও প্রাণ ঝরে যাওয়া যেন আর না ঘটে। লিমনের বাবা বলেন, আমার সবচেয়ে কষ্ট হচ্ছে আমি নিজে অনেক কষ্ট করে ছেলে দুটোকে বড় করেছি। কোনদিন তাদের শারীরিক আঘাত করিনি। যা শাসন করেছি মুখে শাসন করেছি। আমার ছেলেকে এইভাবে মরতে হবেউপরওয়ালা জানেন ছেলেটাকে কী কষ্ট দিয়ে মারছে।

মরদেহ গ্রহণের পর স্বজনরা জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার লালডোবা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিকেলে মরদেহ পৌঁছালে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় স্কুল মাঠে জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৭টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে দাদুর কবরের পাশে লিমনকে দাফন করা হয়।

এর আগে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে বাংলাদেশ সরকার আশাবাদী। একই সঙ্গে বৃষ্টির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াও চলছে।

এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের বিশ্বাস যুক্তরাষ্ট্র এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সম্পন্ন করবে এবং এর জন্য যারা দায়ী তাদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।

লিমন ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিভাগের পিএইচডি শিক্ষার্থী। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে তিনি দুই বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে তিনিই ছিলেন সবার ভরসা। গত ১৬ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন লিমন। একই সময় নিখোঁজ হন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহপাঠী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি, যিনি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছিলেন। কয়েকদিন পর ২৪ এপ্রিল একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বৃষ্টির দেহাবশেষও একটি জলাশয় থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রথমডিগ্রি হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

লিমনের পরিবার জানায়, তিনি ও বৃষ্টি দীর্ঘদিনের সম্পর্কে ছিলেন এবং পড়াশোনা শেষ করে বিয়ে করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই নির্মমভাবে তাদের জীবন থেমে যায়। এই ঘটনায় দেশে ও প্রবাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন
পরবর্তী নিবন্ধক্ষেপণাস্ত্র মেরে হরমুজ থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ফিরিয়ে দিল ইরান