বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক মোহনায় শুক্রবারের ট্রলারডুবির ঘটনায় এ পর্যন্ত ৭ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার বিকালে ও রাতে দুজনের এবং গতকাল রোববার আরো ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়। বোটডুবির ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন একজন। জেলেরা বলছেন, সাগর উত্তাল থাকলে নাজিরারটেক মোহনা হয়ে ওঠে মরণ ফাঁদ।
গতকাল মৃত উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকূল ইউনিয়নের পূর্ব হামজার ডেইল আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা নাজির হোসেন, ছৈয়দ নুরুল ইসলাম, হোসেন আহমদ, আজিজুল হক ও মোহাম্মদ আবছার। আগের দিন শনিবার দুপুর ও রাতে মৃত উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন আবু তৈয়ব ও সাইফুল ইসলাম। তাদের বাড়িও পূর্ব হামজার ডেইল আদর্শ গ্রাম ও মামুন পাড়ায়।
কক্সবাজার সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, রোববার সকালে বাঁকখালী নদীর মোহনা সংলগ্ন সাগরে স্থানীয় জেলেরা তিনটি মৃতদেহ ভাসতে দেখে অর্ধগলিত অবস্থায় মৃতদেহগুলো উদ্ধার করে ট্রলারে তুলে কূলে নিয়ে আসে। পরে বিকালে আরো দুজনের লাশ পাওয়া যায়। এর আগে শনিবার বিকাল ও রাতে একই ইউনিয়নের মো. আইয়ুব ও সাইফুল ইসলাম নামের আরো দুই জেলের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে গভীর বঙ্গোপসাগর থেকে ঘাটে ফেরার সময় শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে নাজিরারটেক উপকূলের কাছে তীব্র ঢেউয়ের ধাক্কায় ডুবে যায় এফবি মায়ের দোয়া নামে একটি মাছ ধরা ট্রলার। এ সময় ট্রলারটিতে থাকা ১৯ মাঝিমাল্লা সাগরে ছিটকে পড়লে তাদের মধ্যে ৮ জনকে উদ্ধার করে কোস্টগার্ড। ৩ জন সাঁতার কেটে কূলে ফিরতে সক্ষম হয় এবং বাকি ৮ জন নিখোঁজ হয়ে যায়। এখনো নিখোঁজ রয়েছে একজন।
জেলেরা বলছেন, সাগর উত্তাল থাকলে নাজিরারটেক মোহনা হয়ে ওঠে মরণ ফাঁদ। প্রায় প্রতি বছর এই মোহনায় একাধিক বোটডুবির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে সমিতিপাড়া থেকে নাজিরারটেক মোহনা পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের প্রায় ২ কিলোমিটার এলাকায় স্রোতের টান বেশি থাকায় এখানে প্রায়শ ঝুঁকিতে পড়তে হয় ট্রলারগুলোকে। এ কারণে অনেক ট্রলার দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময় সাগরে রয়ে যায় বলে জানান ফিশিং বোট মালিক দেলোয়ার হোসেন। এই চ্যানেলে বয়া স্থাপনের অনুরোধ জানান তিনি।












