ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে মধ্যস্থতাকারী দল গঠনের প্রস্তাব

সাজেক পরিস্থিতি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | রবিবার , ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ

সাজেক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা ও এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে খাগড়াছড়িতে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় খাগড়াছড়ি সেনা রিজিয়নের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সড়ক অবরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের দুর্ভোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

গতরাত সাড়ে ৮টায় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। সভায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, বেসামরিক প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং সাজেকের পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উত্থাপিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সংকট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং বেসামরিক প্রশাসনের মাধ্যমে অবরোধকারীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধাপে ধাপে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির নিরাপত্তা বাহিনী, জেলা পরিষদ এবং বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ মধ্যস্থতাকারী দল গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এ দলের নেতৃত্বে থাকবেন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া।

সভায় বলা হয়, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ, পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা দুর্ভোগে পড়ছেন। দীর্ঘদিনের এ অচলাবস্থার কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, যা সামপ্রদায়িক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সড়ক অবরোধে কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়। অবরোধের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা এবং আন্দোলনকারীদের কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্য মদদ দেওয়ার অভিযোগে সংগঠনটিকে জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। সভা শেষে অবরোধের কারণে জনদুর্ভোগ কমানো, এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তৎপর থাকার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানানো হয়।

পাহাড়ে ট্যুরিজম ছাড়া কিছুই নেই : রাঙামাটি প্রতিনিধি জানান, সাজেকে সৃষ্ট সমস্যার দ্রুত সমাধান চেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূইয়া। তিনি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করতে ট্যুরিজম ছাড়া আর কিছুই নেই। এখানে কোনো ইন্ডাস্ট্রি নেই। কোনো একটা সেক্টর নেই যে এ অঞ্চলের মানুষকে একটু রিচ (ধনী) করবে, অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করবে। আছে শুধু ছোট একটা অংশ, তা হল ট্যুরিজম। যেটা নেপালের প্রধান আয়ের উৎস। নেপাল আজ যতটুকু সাবলম্বী হয়েছে, তা ট্যুরিজমের বদৌলতে। পাহাড় একমাত্র ট্যুরিজমের জন্য সুন্দর জায়গা।

গতকাল বিকালে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের মাইনি হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, সাজেকে সামপ্রতিককালে যে সমস্যা চলছে, এই সমস্যা যেন শান্ত থাকে। এটি যেন আর বড় না হয়, সকলের জন্য যাতে একটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়; যার জন্য আমরা সকলে কাজ করব। তাই আমি এমপি দীপেন দেওয়ান, সন্তু বাবু (সন্তু লারমা) ও ইউপিডিএফসহ যারা আছেন সকলকে অনুরোধ করব, যাদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে তাদের সঙ্গে সবাই মিলে আলোচনা করে দ্রুত এর সমাধান করা দরকার। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাবেক উপদেষ্টা প্রয়াত সুবিমল দেওয়ানের নামানুসারে ‘সুবিমল দেওয়ান স্মৃতি ফাউন্ডেশন’র আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ফাউন্ডেশনের সভাপতি মৈত্রী চাকমার সভাপতিত্বে উদ্বোধক ছিলেন সুবিমল দেওয়ানের ছেলে ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙামাটির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে কৃতী নারী ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। এছাড়া রাঙামাটির প্রয়াত সাংবাদিক একেএম মকছুদ আহমদকে মরণোত্তর সম্মাননা দেয়া হয়। পরে সুবিমল দেওয়ান স্মৃতি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত শিশু–কিশোরদের রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙামাটি-খাগড়াছড়িতে সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, অস্ত্র হাতে মহড়া
পরবর্তী নিবন্ধপ্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা