স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর বাড়ানো হয়েছে। ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ গতকাল ২৯ অক্টোবর (নিউইয়র্ক সময়) এ সংক্রান্ত প্রস্তাব গ্রহণ করে।
সরকারের এক বছরের সমন্বিত উদ্যোগ, কূটনৈতিক তৎপরতা, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা ও দর–কষাকষি এবং ব্যবসায়ী মহলের সহযোগিতায় এ সিদ্ধান্ত এসেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এ উদ্যোগে যুক্ত ছিল।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে সরকার এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় চেয়ে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা, আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক যুক্তি তুলে ধরে। এর লক্ষ্য ছিল, দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প খাতে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি তৈরি না করে পরিকল্পিত ও টেকসইভাবে এলডিসি থেকে উত্তরণ নিশ্চিত করা। খবর বাসসের।
তিন বছর সময় বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়, আন্তর্জাতিক আলোচনা এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সম্মিলিত ফল। ব্যবসায়ী সংগঠন ও রপ্তানিকারকেরাও আগাম উত্তরণের ফলে বাজারসুবিধা, রপ্তানি প্রতিযোগিতা, শিল্প উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা আন্তর্জাতিক মহলে তুলে ধরেছেন।
নেপালের সাথে যৌথ পদক্ষেপ : এলডিসি উত্তরণের পেছানো নিয়ে নেপালের নতুন সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে অনলাইনে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়। এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা পেছানোর প্রক্রিয়াটি যেন এককভাবে না হয়ে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) সভাপতি ও নেপালের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত লোক বাহাদুর থাপা এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেন।
জি–৭৭ জোটের আনুষ্ঠানিক সমর্থন : গ্রুপ অব ৭৭ (জি–৭৭)-এর সঙ্গে অনলাইনে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ওই উপস্থাপনা ও বৈঠকের পরই এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়ে জি–৭৭ জোট আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে। বর্ধিত এ সময়কে কাজে লাগিয়ে সামষ্টিক অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করা, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংস্কার, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন বাণিজ্য চুক্তি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বরের মধ্যে এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করে অর্থনীতিকে আরও সহনশীল ও শক্তিশালী করাই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।









