নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা করতে পারে মর্মে পুলিশ সদর দপ্তরের সতর্কতা প্রসঙ্গে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেছেন, এটি পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক, এটা নিয়ে প্যানিক হওয়ার কিছু নেই। গত রাতে দৈনিক আজাদীর সাথে আলাপকালে সিএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের দায়িত্বই হচ্ছে ব্যক্তি এবং স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পুলিশ ২৪/৭ সেই কাজটি করে। নগরীর যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার প্রতি পুলিশের আলাদা নজর থাকে। পুলিশ শুধু পোশাকে নয়, সাদা পোশাকেও নজরদারি চালায়। এটি পুলিশের রেগুলার কাজ। এটিকে আলাদা করে বিবেচনা বা দেখার কিছু নেই বলেও সিএমপি কমিশনার মন্তব্য করেন।
চট্টগ্রামের জ্বালানি তেলের ডিপো, বন্দরসহ বিভিন্ন কেপিআই–১ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তার ব্যাপারে পুলিশ সবসময়ই সজাগ থাকে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এই ধরনের চিঠি নিয়মিত আসে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ইউনিটকে সক্রিয় রাখতে সদরদপ্তর থেকে চিঠি দেয়া হয়। চিঠির প্রেক্ষিতে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। চিঠি না আসলে যে ব্যবস্থা নেয়া হয় না বিষয়টি তেমন নয় বলে উল্লেখ করে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলেন, আমরা সবসময়ই নগরীকে আমাদের চোখের সামনেই রাখি। শহরের প্রতিজন নাগরিক এবং প্রতিটি স্থাপনার নিরাপত্তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এটি আমাদের প্রধান প্রায়োরিটি। সিএমপি কমিশনার নগরবাসীকে কোনো ধরনের শংকিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভয়ের কিছু নেই, আপনার ঠিক পাশেই পুলিশ রয়েছে। হয় পোশাকে, নাহয় সাদা পোশাকে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বাহিনীর ইউনিট প্রধানদের কাছে পাঠানো এ সংক্রান্ত এক বার্তায় ‘নিরাপত্তা জোরদারের’ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নামোল্লেখ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠনের একজনকে গ্রেপ্তার এবং তার সাথে বিশেষ কিছু ব্যক্তির যোগাযোগের কথাও বলা হয়েছে। তারা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বোমা বিস্ফোরণ, দেশীয় ধারালো অস্ত্র কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা করতে পারে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ সদর দপ্তর। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার মধ্যে জাতীয় সংসদ, বাংলাদেশ পুলিশ বা সেনাবাহিনীর স্থাপনা ও তাদের সদস্য, ধর্মীয় উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র, শাহবাগ চত্বরের কথা বলা হয়েছে ওই বার্তায়।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির সদস্যরা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও করে থাকতে পারে জানিয়ে চিঠিতে বলা হয়, এসব ব্যক্তি দেশের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি নজরদারি বৃদ্ধি ও সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।














