নগরীর বায়েজিদে দোকান থেকে পান কিনতে গিয়ে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত শিশু রেশমি আক্তারের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। চিকিৎসকরা বলছেন, শিশুটির মাল্টি অর্গান ফেইলিওর। তার চোখের ভেতর দিয়ে গুলি ঢুকে গেছে। সেখান থেকে ‘ব্রেন মেটার’ বের হচ্ছে। এখনো জ্ঞান ফেরেনি। তার উপযুক্ত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এদিকে রাজু হত্যার ঘটনার একদিন পর গতকাল মামলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল আইসিইউর প্রধান অধ্যাপক ডা. বাকী বিল্লাহ বলেন, শিশুটির অবস্থা খুবই খারাপ। এ পরিস্থিতিতে শিশুটির অপারেশন করা যাবে না। তার হার্ট, ফুসফুস সবকিছু সাপোর্ট দিয়ে চালিয়ে রাখা হচ্ছে।
রেশমি আক্তারের ভাই ফয়সাল আহমেদ জানান, তার বোন রেশমি আক্তার পান কিনতে দোকানে গিয়েছিল। তার চোখের ভেতর গুলি লেগেছে। অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে। অবস্থা খুবই খারাপ। আমরা আল্লাহকে ডাকছি। চমেক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রেশমি আক্তারের চিকিৎসা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ করে তুলতে চেষ্টা করছেন।
গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরের বায়েজিদের রৌফাবাদ এলাকার বাঁশবাড়িয়া বিহারি কলোনিতে বোনের বাসায় বেড়াতে এসে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন হাসান রাজু নামে এক যুবক। পেশায় তিনি দিনমজুর। পাঁচ–ছয়জন যুবক মুখে মাস্ক পরে এসে রাজুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। তখন দোকান থেকে পান কিনতে পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় ১১ বছর বয়সী রেশমি আক্তারও গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার পরপর নগর পুলিশের উপ–কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, নিহত রাজুর বাড়ি রাউজান উপজেলায়। তিনি কয়েকদিন আগে বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন। রাউজানের কোনো বিরোধে রাজু খুন হতে পারেন বলে ধারণা পুলিশের।
এদিকে ঘটনার একদিন পর গতকাল শনিবার বিকালে রাজু হত্যার ঘটনায় বায়েজিদ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রাজুর মা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন।
বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, রাজু হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।












