কক্সবাজারের উখিয়ায় গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য মাটি খননকালে ভূগর্ভ থেকে গ্যাস উদগীরণ হয়ে আগুন জ্বলে ওঠার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ছোট ইনানী এলাকায় মোস্তফা সিকদারের বাড়ির আঙিনায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ভোর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানায় স্থানীয়রা।
আগুনের শিখা ১৫ থেকে ২০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে ওঠে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ও সেনাবাহিনীর ফায়ার টিম লাগাতার চেষ্টা করেও রাত পর্যন্ত আগুন নিভাতে পারেনি। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও ঘটনার অনুসন্ধানে রাতেই বাপেক্সের একটি দল ঢাকা থেকে উখিয়ায় পৌঁছেছে। এদিকে ঘটনার পর সম্ভাব্য অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের ঝুঁকির মুখে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দেয়। আগুন বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় মনখালী থেকে পাটুয়ারটেক পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
বাড়ির মালিক মোস্তফা সিকদার জানান, তাদের বাড়িতে খাবার পানির সংকট নিরসনে সকালে পাঁচ থেকে ছয়জন শ্রমিক গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ করছিলেন। খননকাজ প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ ফুট গভীরে পৌঁছালে হঠাৎ মাটির নিচ থেকে বিকট শব্দে তীব্র গন্ধযুক্ত গ্যাস, কাদা ও ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেখানে আগুন জ্বলে ওঠে এবং অল্প সময়ের মধ্যে আগুনের শিখা ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচুতে উঠে যায়। পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশকে খবর দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দীর্ঘ সময় চেষ্টা করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। পরে দুপুর আড়াইটার পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফায়ার টিম ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেয়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর সদস্যরা ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে যৌথভাবে গ্যাসের চাপ পর্যবেক্ষণ করছেন এবং আগুন ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছেন। তবে তারা কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি।
উখিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে বিশেষজ্ঞদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় আগে থেকেই গ্যাস থাকার কথা স্থানীয়দের কাছ থেকে শোনা গেলেও সেখানে প্রকৃতপক্ষে প্রাকৃতিক গ্যাস রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা–নিরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ভূগর্ভের কোন স্তর থেকে কী ধরনের গ্যাস বেরিয়ে এসেছে, তা বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর জানা যাবে। গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলের ঝুঁকি নিরূপণে সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি। তাই ঢাকায় বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে বাপেঙের বিশেষজ্ঞ দল রাতেই কঙবাজার পৌঁছাবে। তারপর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।












