মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদক তো সমাজ দেহকে শেষ করে ফেলতেছে। তার (ইশরাক) যেটা করা দরকার ছিল, তিনি বলেছেন যে সেখানে পুলিশ ছিল, ফোর্স ছিল। তার হাতে অস্ত্রটা না থাকলে ভালো হতো। এতটুকু। তার কাজকে কেউ নেগেটিভ বলার সুযোগ নাই। কিন্তু একজন জনপ্রতিনিধি তো, একজন প্রতিমন্ত্রী তো। এভাবে যদি প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র হাতে বহন করেন বা কাউকে এটা দিয়ে তাক করেন। তাহলে তিনি হয়তো ভালো নিয়তে করেছেন। কিন্তু খারাপ নিয়তে প্রয়োগ করার মানুষের তো এই সমাজে অভাব নাই। এরা রেফারেন্স হিসেবে এটাকে ইউজ করবে। যদি আপনি সিভিল অ্যাটিচিউড থেকে নেন, এতটুকুই থাক। কিন্তু তার কাজের ব্যাপারে তো এখানে আপত্তি করার কিছু নেই।
তিনি গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরের চন্দনপুরায় বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আয়োজিত ‘পৌরসভা, ইউনিয়ন দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীদের শিক্ষা শিবির’ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির।
সাংবাদিকরা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেখেন, এটা তাদের একটা দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তার পরে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এটা বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী এটা চেয়েছেন, তার জন্য তিনি পদত্যাগ করেছেন।
মাদক নিয়ে কোনো বার্তা আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, মাদক তো আমরা নির্মূল চাই। সংসদে আইন পাস হয়েছে মাদক নিয়ন্ত্রণ। আমরা তো নিয়ন্ত্রণ চাই না। আমরা নির্মূল চাই। মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা কেমন দেখছেন জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, এটা তো আমার পক্ষ থেকে ইশরাকই বলে দিয়েছেন।
দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীদের শিক্ষা শিবিরে যা বললেন :
সাফা আর্কেডে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আয়োজিত ‘পৌরসভা, ইউনিয়ন দায়িত্বশীল ও অগ্রসর কর্মীদের শিক্ষা শিবির’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাদক সমাজকে ধ্বংস করছে। মাদকের কারণে যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে এবং সামাজিক অবক্ষয় বাড়ছে। আমরা মাদকমুক্ত সমাজ চাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সরকার এখনো মাদক নির্মূলে যথাযথ ভূমিকা পালন করতে পারছে না। মাদকের বিস্তার রোধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকেও বিপর্যস্ত করে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু বক্তব্য বা প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, কঠোর নজরদারি এবং সামাজিক সচেতনতা। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সম্মিলিতভাবে মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তিনি একটি নৈতিকতাভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি দলের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো অন্যায়, অনিয়ম কিংবা অসত্যের কাছে মাথা নত করা যাবে না। সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থাকতে হবে। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মানুষের কল্যাণে কাজ করাকে জীবনের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলা উদ্দীন সিকদারের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ আবদুল জব্বারের সঞ্চালনায় শিক্ষা শিবিরে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম অঞ্চল টিম সদস্য অধ্যক্ষ আমীরুজ্জামান এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা জামায়াতের আমির এস এন আবদুচ ছালাম। উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, সাংগঠনিক সেক্রেটারি আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. আবদুল হামিদ চৌধুরী, অধ্যক্ষ নুরুন্নবী, রফিকুল ইসলাম, মাস্টার নুরুছ ছালাম, ইউসুফ বিন আবু বক্কর, ইঞ্জিনিয়ার বোরহান উদ্দিন, জসিম উদ্দিন আজাদ, মাওলানা মুহিউদ্দীন, মাওলানা বোরহান উদ্দিন।












