গত মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধাক্কা খেয়েছে। বিবিসি লিখেছে, আগামী জানুয়ারির শুরুতে কংগ্রেসের যে অধিবেশন বসবে, তা ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কংগ্রেসের চেয়ে অনেকটাই আলাদা হবে। ওই সময়ে দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল রিপাবলিকানদের। এখন কোনো কক্ষেই নেই। ডেমোক্র্যাটরা এখন ট্রাম্পের নীতিগুলো আরও বেশি খতিয়ে দেখার এবং নিজেদের বিরোধিতা করা আইন আটকে দেওয়ার ক্ষমতা পাবেন। তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াও একজন প্রেসিডেন্ট অনেক কিছু করতে পারেন। যেমন ফেব্রুয়ারিতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানে যুদ্ধ শুরু করেন ট্রাম্প। কিন্তু নতুন কংগ্রেস তাকে সামরিক পদক্ষেপে বাধা দিতে না পারলেও অতিরিক্ত অর্থায়ন আটকে দিতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সেনা থাকা অবস্থায় অর্থায়ন বন্ধ করা জটিল হবে এবং এতে মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। খবর বিডিনিউজের।
১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ অনুযায়ী, আসন্ন হামলা ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন, তবে কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা না করলে ৬০ দিনের মধ্যে তা বন্ধ করতে হবে। ট্রাম্প ভিটো দিলেও তা বাতিল করতে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে দুই–তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, যা ডেমোক্র্যাটদের নেই। তবে কিছু রিপাবলিকান ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিমত জানালে যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগে ভূমিকা রাখতে পারেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুরু থেকেই যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন এবং গত সপ্তাহে ইরানের নিরাপত্তাপ্রধানকে চিঠি দিয়ে আলোচনা পুনরুজ্জীবিত ও হামলা এড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, নির্বাচনে দুর্বল অবস্থানে পড়লেও দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে ক্ষমতা ছাড়তে হবে বলে ট্রাম্প বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারেন এবং পশ্চিম এশিয়াবিষয়ক নীতি জোরদার করে নিজের প্রেসিডেন্সির উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বদলালেও ইরানের প্রতি শত্রুতা কমবে না : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিবর্তন এলে ইরানের প্রতি দেশটির শত্রুতার মনোভাবেও পরিবর্তন আসবে বলে যারা মনে করছেন, তারা বড় ভুল করছেন। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানে হামলা চালালে এর জবাব ‘আরও বড় পরিসরে’ দেওয়া হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এরপর বাবার স্থলাভিষিক্ত হন মুজতাবা খামেনি। তবে গত কয়েক মাস ধরে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। ১৯৭৯ সালে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দখলের ঘটনা স্মরণে বুধবার দেওয়া ছয় পৃষ্ঠার এক লিখিত বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।









