ইফতারের পর থেকে নগরীর শপিংমল–মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। ক্রেতা সমাগম ধীরে ধীরে বাড়ার কারণে ব্যবসায়ীদের মুখেও হাসি ফুটেছে। আমাদের দেশে সাধারণত ১৫–২০ রমজানের পর থেকে মার্কেটে জমজমাট বেচাবিক্রি শুরু হয়। তবে এ বছর প্রথম ১০ রমজান পর্যন্ত বেচাবিক্রি ছিল খুব মন্দা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মকর্তা–কর্মচারীদের বেতন বোনাস দেয়নি। যার ফলে মানুষ মার্কেটমুখী হয়নি। গত দুইদিন ধরে অবস্থা কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। মার্কেটে ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। ক্রেতারা বলছেন, মার্কেটে অনেক নিত্য নতুন ডিজাইনের কাপড় এসেছে। কিন্তু দামও বেশি হাঁকছেন বিক্রেতারা।
সরেজমিনে গতকাল নগরীর টেরিবাজার, নিউমার্কেট বিপণি বিতান, রেয়াজুদ্দিন বাজার, তামাকুমণ্ডি লেইন, জহুর হকার্স মার্কেট, বালি আর্কেড, কেয়ারি ইলিশিয়াম, সেন্ট্রাল প্লাজা, মিমি সুপার মার্কেট, আফমি প্লাজা, মেরিডিয়ান কোহিনুর সিটি, কনকর্ড মইন স্কয়ার, ফিনলে স্কয়ার, শপিং কমপ্লেঙ, স্যানমার ওশ্যান সিটি, ইউনেস্কো সিটি সেন্টার, আমিন সেন্টার, ভিআইপি টাওয়ার, আখতারুজ্জামান সেন্টার, সিঙ্গাপুর ব্যাংকক মার্কেট এবং মতি টাওয়ারের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, ইফতারের পর থেকে ক্রেতারা মার্কেটে ভিড় করছেন। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পছন্দের বিভিন্ন পোশাক দেখছেন এবং বিক্রেতার সাথে দরদামে মিললেই পছন্দের পোশাক কিনে বাড়ির পথ ধরছেন।
গতকাল নগরীর মেরিডিয়ান কোহিনুর সিটিতে আসা ক্রেতা সাহেদা ইসলাম বলেন, এ বছর ঈদের মূল কেনাকাটা রমজানের প্রথম সপ্তাহে করেছি। এখন অল্প কিছু কেনাকাটা আছে সেগুলো সারার জন্য এসেছি। নগরীর ফিনলে স্কয়ারে আসা শিক্ষার্থী রাহিজা তাসনিম বলেন, বান্ধবীদের সাথে ঘুরতে এসেছি। ঈদের কেনাকাটা টুকিটাকি করেছি। এখনো অনেক বাকি। গত বছরের তুলনায় এবছর পোশাকের দাম বেশি বলে জানান তিনি।
টেরি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান দৈনিক আজাদীকে বলেন, মার্কেটে ইফতারের পর থেকে ক্রেতা বাড়ছে। আমাদের ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য আমদানি করেছেন। মার্কেট পুরোপুরি জমে উঠবে ১৫–২০ রমজানের পর থেকে। ঈদ মার্কেটকে কেন্দ্র করে আমরা মার্কেটের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছি।
তামাকুমণ্ডি লেইন বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক বলেন, আমাদের তামাকুমণ্ডি লেইন বণিক সমিতির অধীনে ১১০টি মার্কেটে আছে। এখানে সব ধরনের পণ্য রয়েছে। আমাদের সবগুলো মার্কেটে জমজমাট বেচাবিক্রি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা ক্রেতা আকর্ষণে ভারত, চীন ও থাইল্যান্ডের মতো দেশ থেকে ভালো ভালো পণ্য আমদানি করেছেন। তামাকুমণ্ডি লেইনে ক্রেতারা আসেন কোয়ালিটি পণ্য কেনার জন্য। ঈদের বেচাবিক্রি নিয়ে আমরা সন্তুুষ্ট।
জহুর হকার্স মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব ফজলুল আমিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, জহুর হকার্স মার্কেট উচ্চবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত শ্রেণীর মানুষের পছন্দের ঠিকানা। কারণ এখানে কম দামে খুব ভালো পণ্যটি ক্রেতারা বেছে নিতে পারেন। ঈদ উপলক্ষে প্রতি বছরের মতো এ বছরও আমাদের ব্যবসায়ীরা প্রচুর পরিমাণ পণ্য নিয়ে এসেছেন। এখন আহামরি বেচাবিক্রি হচ্ছে না। সামনের দিনগুলোতে আশা করি বেচাবিক্রি বাড়বে।
রেয়াজউদ্দিন বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি ছালামত আলী বলেন, আমাদের ব্যবসায়ীরা সারা বছর এই একটি মাসের জন্য অপেক্ষায় থাকেন। ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা ফ্যাশনেবল পোশাক নিয়ে এসেছেন। মার্কেটে এখন বেচাবিক্রি পুরোদমে শুরু হয়নি। তবে ইফতারের পর পর ক্রেতার সংখ্যা বাড়ছে।












