জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক এক পুলিশ সার্জেন্টকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি তাকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের সমপরিমাণ তথা ৮৯ লাখ ২৭ হাজার ৭৪২ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তার নাম বেলাল হোসেন।
নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানার নোয়ান্নাই এলাকার বাসিন্দা তিনি। গতকাল চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় আসামি কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন না। তিনি পলাতক। এ জন্য তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. রেজাউল করিম রনি দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি সম্পদের তথ্য গোপনের দায়ে বেলাল হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক। বিচারপ্রক্রিয়ায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য রেকর্ড হয়েছে বলেও জানান তিনি। আদালতসূত্র জানায়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ২০০৯ সালের ২০ জুলাই বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম–২ এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক মো. মনজুর আলম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজহারে বলা হয়, অনুসন্ধানে বেলাল হোসেনের নামে ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৮ হাজার ৮৪৭ টাকা। পাশাপাশি আয়কর নথিতে তার ঘোষিত ব্যয় ও খরচের পরিমাণ পাওয়া যায় ৮৪ লাখ ৮ হাজার ৬৯১ টাকা। সম্পদ ও ব্যয় মিলিয়ে তার মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ১৫৪ টাকা। বৈধ আয়ের সঙ্গে তুলনা করে ৯৮ লাখ ১ হাজার ৩০৭ টাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এছাড়া দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে বেলায়েত হোসেন নিজের নামে ৮৫ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৪ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য ঘোষণা করেছিলেন। তবে যাচাইয়ে তার নামে ১ কোটি ৫১ লাখ ৬১ হাজার ৪৬৩ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এতে তিনি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ১৭৯ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন বলে মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়। আদালতসূত্র আরো জানায়, তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল পরবর্তী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জগঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।












