আবু সাঈদ হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক শেষ, রায় যে কোনো দিন

| বুধবার , ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ

চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। এরপর রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল২ এর সদস্য অবসরপ্রাপ্ত জেলা দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীরের দুই সদস্যের বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়। এদিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যরা। আসামিপক্ষে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, আবুল হাসানসহ অন্যরা ছিলেন। প্রসিকিউশন এ মামলার ৩০ আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। পরে আসামিপক্ষে আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলু, আবুল হাসান এবং পলাতকদের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তারা আসামিদের বেকসুর খালাস চেয়েছেন। খবর বিডিনিউজের।

গত ২১ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়; শেষ হয় ২৫ জানুয়ারি। তিন কার্যদিবসে যুক্তিতর্কে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মূল ফটকের সিসিটিভি ভিডিও ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয়, যা ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সময় ধারণ করা হয়েছিল। এ মামলায় ৩০ আসামির মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছেন; ২৪ জন পলাতক। সেদিন গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে পুলিশ। তারা হলেন এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ।

প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এ মামলায় ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করেছি। অকাট্যভাবে আমরা মামলা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান (সিএভি) রেখেছেন, অর্থাৎ যেকোনো দিন রায় দেওয়া হবে।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইয়রেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হন তারই বিশ্ববিদ্যালয়ের গেইটে। তিনি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ। ওইদিন সারা দেশে তিনিসহ অন্তত ছয় জন নিহত হন। এ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৪ জুন প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় ৩০ জুন। পলাতক আসামিদের পক্ষে ২২ জুলাই রাষ্ট্রের খরচে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। ৬ অগাস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল২। ২৭ অগাস্ট প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাষ্ট্রপতি ভোট দেবেন পোস্টাল ব্যালটে
পরবর্তী নিবন্ধজামায়াতের দুই মন্ত্রী তখন কেন পদত্যাগ করেনি