১৯৭১ সালের মার্চের এই দিনে পূর্ব বাংলায় চলমান অসহযোগ আন্দোলন আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকা কর্মবিরতি, হরতাল ও বিক্ষোভের ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কার্যত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে জনতার আন্দোলন আরও সংগঠিত রূপ নিতে শুরু করে। সকাল থেকেই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্র, শ্রমিক, শিক্ষক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে। দোকানপাট, অফিস–আদালত ও অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। সরকারি ও আধা–সরকারি প্রতিষ্ঠানের বহু কর্মকর্তা–কর্মচারী অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়ে কাজে যোগ দেননি। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রায় সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়ে।
রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যায়। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে সভা–সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন এবং আন্দোলনের পক্ষে শপথ গ্রহণের কর্মসূচিও অব্যাহত থাকে। ছাত্র ও যুবসমাজ এলাকায় এলাকায় পাহারা ও ব্যারিকেডের ব্যবস্থা করে আন্দোলনকে সুসংগঠিত রাখার চেষ্টা চালায়।
এদিকে পাকিস্তানের সামরিক সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালালেও পূর্ব বাংলার জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে সেই প্রচেষ্টা কার্যকর হয়ে উঠছিল না। আন্দোলনরত জনতার মধ্যে তখন একটাই প্রত্যাশা–বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়া।










