নিজের অসময় কাটিয়ে উঠতে নিজেকেই চেষ্টা করতে হয়। কারণ অসময়ের যাতাকলে চূর্ণ হতে থাকা অবস্থায় আপনি আপনার আত্মীয়-অনাত্মীয় পরিচিত মুখ, শুভাকাঙ্ক্ষী কিংবা বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে অর্ধেককে পাবেন যারা আপনার অসময় দেখেও না দেখার ভান করে পাশকাটিয়ে যায়। বাকি রইল অর্ধেক। এই অর্ধেকের আরো অর্ধেক পাবেন, যাদের কাছে অপ্রয়োজনীয় সান্তনা, মিথ্যা আশার মিষ্টি কথা ছাড়া আর কিছুই পাবেন না। এখন বাকি যা রইল তাকে আবার সমান চার-পাঁচ ভাগে ভাগ করে নিন। দ্বিতীয় ভাগে খোঁজ মিলবে মৌসুমী ফলের মত কিছু আমজনতার। যাদের আগমন আর প্রস্থান দুটিই হয় আচমকা। এই হঠাৎ দুএকবার দেখা যায় এই হঠাৎ কোথায় যেন হারিয়ে যায় বোঝাটাই মুশকিল। তৃতীয় ভাগে পাবেন তাদেরকে যারা আপনার অসময় নিয়ে বিরাট চিন্তায় থাকবে। কিন্তু মনে মনে আপনি যেন সেই অসময়ের বৃত্তেই আরো কিছুকাল আটকে থাকেন এটাই মূলত চাইবে। চতুর্থ ভাগে পাবেন অহেতুক কিছু উদারতাবাদীদের। যারা আপনার নগণ্য তৃষ্ণার জন্য আপনাকে সামান্য পানি দেয়ার বদলে কলসে কলসে সান্তনা দেয়ার কাজটা অনায়াসে করে যাবে।
আর শেষ বাকিতে রইল সামান্য কিছু অংশ। যারা আপনার কষ্ট নিয়ে সত্যিকারভাবেই চিন্তিত। এরা চায়না আপনার কোনো বিনিময়, চায় না কোনো প্রকার স্বার্থ ঝুড়ি। এরা আপনার অসময় শেষ না হওয়া আপনার পাশে থাকে সামর্থ্য-শক্তি অনুযায়ী। করেনা কোনো প্রকার মিথ্যা অভিনয়। হ্যাঁ এরাই আপনার জীবনের আসল মানুষ। অসময় ফুরালেও এদের আগলে রাখুন। দেখবেন আপনি প্রতারিত হবেন না। কিন্তু এরা সংখ্যায় অনেক কম। যাদের খুঁজে পাওয়াটা খুব কঠিন তবে বেশ সৌভাগ্যের।
লেখক: সাহিত্যকর্মী










