হাই কোর্টকে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের তালিকা জমা দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল রোববার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের দ্বৈত বেঞ্চে ১৪ প্রতিষ্ঠান ও ২৯ ব্যক্তি মিলে মোট ৪৩ নামের এ তালিকা দাখিল করা হয়। হাই কোর্টে দুদকের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান রোববার দুপুরে দৈনিক আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদকের তালিকায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে, বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও তার স্ত্রী নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, ছেলে তাবিথ আউয়াল, তাফসির আউয়াল, তাজওয়ার মো. আউয়াল, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মোগল ফরিদা ওয়াই ও শহিদ উল্লাহ, ঢাকার বনানীর চৌধুরী ফয়সাল, বারিধারার আহমাদ সামির, ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড ও ভেনাস ওভারসিজ কোং-এর মুসা বিন শমসের, ডাইনামিক এনার্জির ফজলে এলাহী, ইন্ট্রিপিড গ্রুপের কেএইচ আসাদুল ইসলাম, খালেদা শিপিং কোম্পানির জুলফিকার আহমেদ, নারায়ণগঞ্জের জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের তাজুল ইসলাম তাজুল, বেঙ্গল শিপিং লাইনসের মোহাম্মদ মালেক, সাউদার্ন আইস শিপিং কোম্পানির শাহনাজ হুদা রাজ্জাক, ওসান আইস শিপিং কোম্পানির ইমরান রহমান, শামস শিপিং লিমিটিডের মোহাম্মদ এ আউয়াল, এরিক জনসন আনড্রেস উইলসন, ইন্ট্রিডিপ গ্রুপের ফারহান ইয়াকুবুর রহমান, জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের তাজুল ইসলাম, পদ্মা টেঙটাইলের আমানুল্লাহ চাগলা, রাশিয়ার নিউটেকনোলজি ইনভেস্টমেন্টের মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, মাল্টার মোহাম্মদ রেজাউল হক, জেমিকো ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের মোহাম্মদ কামাল ভূঁইয়া, তুহিন-সুমন, সেলকন শিপিং কোম্পানির মাহতাবা রহমান, জেমিকো ট্রেড ইন্টান্যাশনালের ফারুক পালওয়ান ও আয়ারল্যান্ডের গ্লোবাল এডুকেশন সিস্টেমের মাহমুদ হোসাইন।
জানা যায়, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে গত বছরের ২২ নভেম্বর স্বপ্রণোদিত রুল জারি করে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সব ধরনের তথ্য চান হাই কোর্ট। ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব, দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পরে ওই বছরের ১৭ ডিসেম্বর বিদেশে অর্থপাচার বিষয়ে দুদক, সিআইডি, বিএফআইইউ ও এনবিআর হাই কোর্টে প্রতিবেদন উপস্থাপন করে। হাই কোর্ট কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যারা অবৈধভাবে গাড়ি বাড়ি তৈরি করেছেন তাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছিলেন। এর সঙ্গে জড়িতদের নাম জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ তথ্য দিতে পারেনি। এতে সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্য পর্যাপ্ত নয় জানিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন হাই কোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল বেঞ্চ। এর প্রায় এক বছর পর অর্থ পাচারকারী ১৪ প্রতিষ্ঠান ও ২৯ ব্যক্তির নামের তালিকা হাই কোর্টে জমা দিল দুদক।












