অবশেষে বিদায় বলে দিলেন খাওয়াজা

স্পোর্টস ডেস্ক | শনিবার , ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

টেস্ট শুরুর দুদিন আগে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করবেন উসমান খাওয়াজা। এমন যখন জানানো হলো তখন সবাই যা বোঝার বুঝে গিয়েছিলেন। সেসবকেই সত্যি প্রমাণ করে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটার। দীর্ঘ প্রায় এক ঘণ্টার সংবাদ সম্মেলনে অ্যাশেজ চলাকালে পাওয়া সমালোচনা এবং সেটির সঙ্গে নিজের বর্ণগত পরিচয়ের যোগসূত্র নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন অস্ট্রেলিয়ার এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। এবারের অ্যাশেজের শেষ টেস্ট দিয়েই ইতি টানবেন তিনি ১৫ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের। ১৮ বছর আগে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে তার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক। স্বপ্নের টেস্ট ক্যাপও পেয়েছিলেন এই মাঠেই, ১৫ বছর আগে অ্যাশেজে। এই মাঠেই চার বছর আগে পুনরুজ্জীবিত হয় তার টেস্ট ক্যারিয়ার। ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘদিন এটি ছিল ঘরের মাঠ। প্রিয় সেই আঙিনা থেকেই বিদায় নিচ্ছেন ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটার। বিদায়ের ঘোষণায় সিডনিতে শুক্রবার ৫০ মিনিটের সংবাদ সম্মেলনে খাওয়াজা ফিরে তাকান অনেক কিছুতে। সেখানে মিশে থাকল আবেগ, গর্ব, লড়াই, আক্ষেপ, সবকিছুই। তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী র‌্যাচেল, দুই মেয়ে, বাবা ও পরিবারের বেশ কজন সদস্য। ফর্মহীনতা ও পারফরম্যান্সের ঘাটতি নিয়ে আলোচনায় ছিলেন তিনি বেশ কিছুদিন ধরেও। পক্ষে ছিল না বয়সও। এবারের অ্যাশেজের মাঝপথে বাদও পড়েছিলেন। তবে বিদায়ের ঘোষণায় খাওয়াজা জানালেন, কোচ তাকে আগামী বছরের ভারত সফর পর্যন্ত দলে চাইছিলেন।

পুরোপুরি না হলেও এটা নিয়ে আমি ভাবছি কিছু দিন ধরে। এই সিরিজ শুরুর সময়ই মাথায় ঘোরাঘুরি করছিল, এটিই হবে আমার শেষ সিরিজ। র‌্যাচেলের (স্ত্রী) সঙ্গে বেশ আলোচনা করেছি এটা নিয়ে এবং জানতাম যে, এটা বড় একটা সুযোগ। যদিও দুয়ার পুরোপুরি বন্ধ করিনি, কারণ এটাও জানতাম যে, খেলা চালিয়েও যেতে পারি। এটাও জানি যে, শেষ সময় পর্যন্ত, কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডকে যখন কয়েক দিন আগে বললাম, তখনও তিনি ভাবছিলেন, কীভাবে ভারত সফর পর্যন্ত (২০২৭) টিকে থাকতে পারি’।

অ্যাডিলেইড টেস্টের স্কোয়াডে তিনি ফিরলেও একাদশে জায়গা হারান। তবে সেই টেস্টের সকালে স্টিভেন স্মিথ অসুস্থতা নিয়ে ছিটকে পড়লে শেষ মুহূর্তে সুযোগ পান খাওয়াজা। মিডল অর্ডারে নেমে ৮২ ও ৪০ রানের দুটি ইনিংস খেলেন। তাতে আবার জেগে ওঠে তার টেস্ট ক্যারিয়ার। শেষ পর্যন্ত দল থেকে বাদ পড়ে নয়, বরং নিজেই বিদায় বলে দিতে পারছেন, সেই তৃপ্তি তার সঙ্গী।

খাওয়াজার জন্ম পাকিস্তানের ইসলামাবাদে। তার চার বছর বয়সে বাবা তারিক খাওয়াজা ও মা ফৌজিয়া খাওয়াজা পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের পাশেই কুক রোডে বেড়ে ওঠেন তিনি। ক্রিকেটের পাশাপাশি তার তুমুল আগ্রহ ছিল বিমান নিয়েও। বিমান চালনা নিয়েই পড়াশোনা করেছেন, সনদপ্রাপ্ত পাইলট তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন ক্রিকেটকে। অস্ট্রেলিয়ার প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার হিসেবে খাওয়াজার টেস্ট অভিষেক ২০১১ সালে। মূলত চোট পাওয়া রিকি পন্টিংয়ের বদলি হিসেবে দলে এসেছিলেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে পায়ের নিচে জমিন শক্ত করতে সময় লেগে যায় অনেকটা।

৩৬ বছর বয়সে শুরু হয় তার টেস্ট ক্যারিয়ারের সেরা সময়। পাকিস্তানে তিন ম্যাচের সিরিজে দলের স্মরণীয় সিরিজ জয়ে তিনি সিরিজসেরা হন ৪৯৬ রান করে। এরপর তার পরিচয় ছিল ওপেনারই। ওপেনিংয়েই করেছেন ৮টি সেঞ্চুরি। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জিতেছেন আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ বা টেস্টের বিশ্বকাপ। ক্যারিয়ারের শেষটা আবার হচ্ছে মিডল অর্ডারে।

৮৮ টেস্ট খেলে থামছে তার ক্যারিয়ার। শেষ টেস্টের আগে তার রান ৪৩.৩৯ গড়ে ৬ হাজার ২০৪। সেঞ্চুরি করেছেন ১৬টি, ফিফটি ২৮টি। অর্ধেকের বেশি রানই (৩ হাজার ৩১৯) করেছেন তিনি বয়স ৩৫ পেরিয়ে, টেস্ট ইতিহাসে এখানে তার ওপরে আছে মাত্র ছয় জন।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এখনও পর্যন্ত টেস্ট খেলেছেন ৪৭৩ জন। খাওয়াজার চেয়ে বেশি টেস্ট খেলতে পেরেছেন মাত্র ১৮ জন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অন্য দুই সংস্করণেও তিনি খেলেছেন। তার ওয়ানডে রেকর্ড ৪০ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরি ও ১২ ফিফটিতে ১ হাজার ৫৫৪ রান করেছেন ৪২ গড়ে। ২০১৯ বিশ্বকাপে খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার সব ম্যাচে। টিটোয়েন্টি খেলেছেন ৯টি। স্ট্রাইক রেট ১৩২.৪১। ফিফটি করেছেন ১টি। সীমিত ওভারের ক্যারিয়ার থমকে গেছে বেশ আগেই। এবার শেষ হচ্ছে টেস্টের পথচলাও। বিদায় বেলায় খাওয়াজার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ। ‘অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে উসমান বিশাল অবদান রেখেছে দুই ভাবেই অসাধারণ অর্জনের মাধ্যমে, আমাদের সবচেয়ে স্টাইলিশ ও দৃঢ়চেতা ব্যাটসম্যানদের একজন হিসেবে এবং মাঠের বাইরে উসমান খাওয়াজা ফাউন্ডেশন দিয়ে। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানাই।’

সিডনি টেস্ট শুরু রোববার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও বিগ ব্যাশ ও শেফিল্ড শিল্ডে খেলা চালিয়ে যেতে চান আপাতত।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরাঙ্গুনিয়ায় নূরের আলো সুপার লিগে চ্যাম্পিয়ন সাউথ ঘাটচেক
পরবর্তী নিবন্ধফিজকে মিস করেছি : নবি