সন্ত্রাসী, জঙ্গি এবং নাশকতাকারীরা যেন নগরীতে দল বেঁধে বাড়ি ভাড়া নিয়ে কোনো ধরনের নাশকতা করার সুযোগ না পায় সেজন্য সিএমপি কর্তৃপক্ষ বাড়ি মালিকদের প্রতি বিশেষ এক নির্দেশনা জারি করেছে। সিএমপির নির্দেশনায় বাড়ি, বাসা কিংবা ফ্ল্যাট মালিকদের কোনো ব্যাচেলর বা অপরিচিত কাউকে ভাড়া দেওয়ার আগে অবশ্যই ভাড়াটিয়ার তথ্য পুলিশকে জানাতে হবে। পুলিশের ক্লিয়ারেন্সের পরই কেবল ব্যাচেলর বা অপরিচিতদের ঘর ভাড়া দেয়া যাবে। অন্যথায় উক্ত ভাড়াটিয়াদের কেউ কোনো ধরনের নাশকতার ঘটনা ঘটালে উক্ত বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধেও সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা রুজু করা হবে।
গতকাল বুধবার প্রথম দিন নগরীর পাঁচলাইশ থানা পুলিশ এই নির্দেশনা নিয়ে মাইকিং করে। ক্রমান্বয়ে নগরীর ১৬টি থানা এলাকায় বিষয়টি প্রচার করতে মাইকিং করা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, নগরীতে বাসা বা ফ্ল্যাটে মেস করে ভাড়া নিয়ে জঙ্গি এবং সন্ত্রাসীরা নাশকতা ঘটাতে পারে মর্মে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এজন্য সিএমপি কর্তৃপক্ষ বাড়ি, বাসা এবং ফ্ল্যাট মালিকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, পরিবার ছাড়া কোনো ব্যাচেলর বা অপরিচিত কাউকে ঘর ভাড়া দিতে হলে তাদের বিস্তারিত তথ্য আগে পুলিশকে জানাতে হবে। পুলিশ ভাড়াটিয়ারা জঙ্গি কিংবা নাশকতাকারী নয় মর্মে নিশ্চিত হওয়ার পরই তাদেরকে ঘরে বসবাস করতে দেয়া যাবে।
নগরে আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নগর পুলিশের (সিএমপি) উদ্যোগে উক্ত নির্দেশনা নিয়ে বিশেষ প্রচারণা শুরু হয়েছে। সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের নির্দেশনায় গতকাল নগরীর পাঁচলাইশ থানা এলাকায় প্রথম মাইকিং করা হয়। আজ কালের মধ্যে নগরীর বাকি ১৫টি থানা এলাকায়ও একযোগে মাইকিং করে ব্যাচেলর এবং অপরিচিত ভাড়াটিয়ার তথ্য থানায় জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
প্রচারণায় বলা হয় যে, বাড়ি বা বাসার মালিকেরা পরিবারের বাইরে ব্যাচেলর কিংবা অপরিচিত কাউকে ভাড়া দেওয়ার আগে অবশ্যই ভাড়াটিয়ার তথ্য থানায় জমা দিতে হবে। এসব ভাড়াটিয়ার কেউ যদি জঙ্গি বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তবে তার দায়ভার বাসার মালিককেও বহন করতে হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে বাড়ি মালিকদের প্রতি অপরিচিত ও ব্যাচেলর ভাড়াটিয়ার তথ্য থানায় দিয়ে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়।
সিএমপি কমিশনাার হাসিব আজিজ জানান, বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সকল বাড়ি মালিককে সতর্ক করে মাইকিং করছি। কোন বাড়ি বা ফ্ল্যাটে কয়েকজন ব্যাচেলর মিলে ভাড়া নিয়ে পরবর্তীতে কোনো নাশকতা করলে তার দায়ভার বাড়ি বা ফ্ল্যাটের মালিককে নিতে হবে। আমরা ওই ঘরের মালিককেও সন্ত্রাস বিরোধী আইনের মামলায় আসামি করব। তিনি বলেন, ভাড়াটিয়ার সঠিক তথ্য থানায় জমা দিলে একদিকে বাড়ির মালিকরা নিরাপদ থাকবেন, অন্যদিকে নগরে জঙ্গি, সন্ত্রাসী বা অপরাধী গোষ্ঠীর গোপনে বসবাসের সুযোগ রোধ হবে। নগরীর আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে ভাড়াটিয়া যাচাই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে পুলিশের এই পদক্ষেপকে সহায়তা করার জন্য সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ সর্বসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।











