নগরে খালের দুই পাড়ে এবং যেখানে সম্ভব মানুষের হাঁটার সুবিধার্থে রাস্তা নির্মাণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের উদ্যোগ নিতে বলেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যারা জায়গার অভাবে হাঁটতে পারে না এবং ঘরবন্দি হয়ে বসে থাকে তাদের জন্য আমি মেয়রকে অনুরোধ করেছি, যেখানে সম্ভব হাঁটার রাস্তা করে দেন, খালের দুই পাড়ে রাস্তা করে দেন। মানুষকে বাইরে যেতে হবে, হাঁটতে হবে। ঘরে বন্দি হলে মানুষের মানসিক অবস্থা আরও খারাপ হবে। মানুষকে বাইরে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। আর হাঁটার জন্য পথ করে দিতে হবে, সাইকেল চালানোর জন্য পথ করে দিতে হবে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে চসিকের উদ্যোগে বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন ও বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান ও এনামুল হক এনাম। বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে নির্মিত এই সাইকেল ট্র্যাক নগরের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
আমির খসরু বলেন, আজকে সাইক্লিস্টদের জন্য যেটা হয়েছে, এটা মাত্র শুরু। চট্টগ্রাম মহানগরে বিভিন্ন জায়গায় যাতে মানুষ সাইকেলের মাধ্যমে যাতায়াত করতে পারে, বিনোদনের জন্য যেতে পারে, এক্সারসাইজের জন্য যেতে পারে, তার জন্য ক্রমান্বয়ে অনেকগুলো ট্র্যাক করা হবে। আমাদের অর্থনীতি বলেন, বিএনপির ম্যানিফেস্টো বলেন, এখানে সবার জন্য আমরা জায়গা খুঁজছি অন্তর্ভুক্তিমূলক একটা দেশ করার জন্য। সুতরাং এটা তার একটা প্রজেক্ট।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত চট্টগ্রামের তিনটি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান ও এনামুল হক এনামের নাম উল্লেখ করে আমির খসরু বলেন, এখানে তিনজন এমপি আছেন, আমি তাদেরকেও অনুরোধ করছি, তারা যেন তাদের এলাকায় সাইক্লিস্টদের জন্য রাস্তা করে দেন। তাদের এলাকায় হাঁটার জন্য ওয়াকওয়ে করে দেন। মেয়র সাহেব আছেন, প্রস্তাব দেন। আমার পক্ষ থেকে সব সাহায্য থাকবে। কারণ এগুলো একটি নাগরিকের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা। এটা কোনো লাক্সারি না, এটা দৈনন্দিন জীবনের চাহিদা। একটি সভ্য দেশে, উন্নত দেশে এগুলো সাধারণ নাগরিকের চাহিদা। এগুলো আমাদেরকে পূরণ করতে হবে, সবার জন্য জায়গা সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি বলেন, সাইকেল তো বাসায় চালাতে পারবে না, রাস্তায় চলতে হবে। যারা সাইকেল চালায় তাদের একটা স্পেস দেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের মেয়র উদ্যোগ নিয়েছেন। এজন্য মেয়রকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এটা নিয়ে উনার সাথে অনেকবার আলাপ করেছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে অনেক ধরনের উন্নয়ন হচ্ছে। যে সমস্ত মানুষ বাংলাদেশে সাইকেল চালায়, সাইকেল চালাতে ভালোবাসে, তাদের জন্য কিছু জায়গা তো করে দিতে হবে, তাই না? সরকারের নীতি হচ্ছে, আমরা সকলের জন্য। প্রতিটি গোষ্ঠীর জন্য আমাদের দায়িত্ব আছে। সাইক্লিস্টদের জন্য সারা দুনিয়াতে সাইকেল ট্র্যাক থাকে। সাইকেলের মাধ্যমে অনেকে অফিসে যায়। অফিস থেকে ফিরে আসে, কাজ–কর্ম করে। এটা (সাইকেল) কিন্তু যানবাহনের একটি বড় অংশ। আবার শারীরিকভাবে সুস্থ থাকার জন্য অনেকে সাইকেল চালায়।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক নির্মাণ চট্টগ্রামবাসীর জন্য একটি গর্বের অর্জন। প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাকের পাশাপাশি হাঁটার পথ নির্মাণ এবং দুই পাশের সৌন্দর্যবর্ধনে বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ লাগানো হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে সবুজায়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিমানবন্দর সড়ককে আরও নান্দনিক করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
মেয়র বলেন, বিমানবন্দর এলাকা থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পর্যন্ত সড়কের সৌন্দর্যবর্ধন ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নাগরিকদের জন্য সাইক্লিং ও হাঁটার সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর পরামর্শ ও উৎসাহ এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মন্ত্রীর সংসদীয় এলাকা থেকে এই কার্যক্রম শুরু করতে পেরে আমি আনন্দিত।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরে বড় সড়কের পাশাপাশি খালকেন্দ্রিক উন্নয়নেও সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে নির্মাণের সম্ভাবনা রয়েছে। খালের দুই পাড়ে প্রয়োজনীয় জায়গা পাওয়া গেলে সেখানে হাঁটার পথ, সাইকেল চালানোর সুবিধা ও সবুজায়ন করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসীর শরীরচর্চার সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি নগরীর সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, সেগুলো রক্ষা করার দায়িত্বও সবার। সাইকেল ট্র্যাক ও ওয়াকওয়ে যেন অবৈধ দখল, স্থাপনা কিংবা প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে না পড়ে, সেজন্য চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা–কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি গাছপালার পরিচর্যা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
শাহাদাত বলেন, বিমানবন্দর সড়ক থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সড়কের স্থায়িত্ব বাড়াতে আরসিসি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের ভারী যানবাহনের চাপ সামলানো এবং সড়কের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ করছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার চেয়ারম্যান ইদ্রিস মিয়া, ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম, চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান ও প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান।












