চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে ২০১৮ গৃহীত প্রকল্পটির কাজ (চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পটির–ফেইজ–২) কাজ গত ৮ বছরেও শেষ হয়নি। ২ হাজার ৫০১ কোটি ৯০ লাখ টাকার এই মেগা প্রকল্পটির এই পর্যন্ত তিন দফা সময় এবং অর্থ বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার–আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হলেও বাস্তবায়নের কাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে এগিয়ে চলছে। গত ৮ বছরে এই মেগা প্রকল্পের সুফল পাচ্ছে না চট্টগ্রামবাসী।
তিন দফায় প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে ২ হাজার ৭৬৪ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা করা হয়। সর্বশেষ প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এই প্রকল্পের অধীনে ১ হাজার ৫৪১ কিলোমিটার বিতরণ লাইনের আধুনিকায়ন করা এবং ২ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার নতুন বিতরণ লাইন নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখনো পর্যন্ত বিতরণ লাইনের আধুনিকায়ন এবং নতুন লাইনের কাজ পুরোপুটি শেষ হয়নি। প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে জানা গেছে, অর্ধেকেরও বেশি কাজ শেষ হয়েছে। পুরো পুরোপুরি শেষ হতে আরও সময় লাগবে।
এই প্রকল্পের অধীনে ২২টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং ৭টি উপকেন্দ্রের আধুনিকায়ন, ৩ হাজার ৮১২টি ট্রান্সফরমার স্থাপন এবং ৮০ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখনো পর্যন্ত কোনটির কাজ সম্পন্ন হয়নি। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পটির (ফেইজ–২) কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। এ পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালক পরিবর্তন হয়েছে তিন জন। তারপরও প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি।
এই ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. লুৎফুল হায়দার চৌধুরী আজাদীকে জানান, প্রকল্পের কাজ শেষ হতে আরও ২ বছরের মতো লাগবে। প্রকল্পের নতুন বিতরণ লাইনের কাজ এবং নতুন উপকেন্দ্র তৈরির চলছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।
প্রকল্পের অধীনে ২২টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ, ৭টি উপকেন্দ্র আধুনিকায়ন, ৩ হাজার ৮১২টি ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হবে। একেকটির অগ্রগতি একেক রকম বলে জানান তিনি। প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে জানা গেছে, প্রকল্পে অধীনে ১ হাজার ৫৪১ কিলোমিটার বিতরণ লাইন আধুনিকায়নের বিপরীতে ৬৬৮ কিলোমিটার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন ২ হাজার ৫৯৮ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণের বিপরীতে নির্মাণ হয়েছে ১ হাজার ৮৯০ কিলোমিটার। প্রকল্পের আওতায় মোট ৮০ হাজার ৪০০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বসানো হয়েছে ৩৪ হাজার ৪২০টি। প্রকল্পে ২২টি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ এবং ৭টি আধুনিকায়নের লক্ষ্যমাত্র রয়েছে। এছাড়াও ৩ হাজার ৮১২টি ট্রান্সফরমার স্থাপনের কথা রয়েছে। তবে ট্রান্সফরমার স্থাপনের কাজ প্রায় এগিয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রকল্পটির ব্যাপারে পিডিবির চট্টগ্রামের এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, প্রকল্পটি বাস্তাবায়নের কাজ শেষ হলে চট্টগ্রামে বিদ্যুৎবিতরণ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আসবে। এখন বিদ্যুতের ঘনঘন আসা–যাওয়ার কারণে গ্রহকদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়–সেটা একেবারেই কমে যাবে। বিতরণ ব্যবস্থা অনেক শক্তিশালী হবে।










