২২৩ টাকা বেড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম এখন ২০৬০

গাড়িতে ব্যবহার করা অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ

| মঙ্গলবার , ৩ নভেম্বর, ২০২৬ at ৬:২২ পূর্বাহ্ণ

এক মাসের ব্যবধানে বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কোম্পানির সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটার ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। রান্নায় বেশি ব্যবহার করা তরলীকৃত এই গ্যাসের দাম বাড়াতে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবের ওপর গণশুনানির তিন দিন পর গতকাল সোমবার নতুন দর নির্ধারণের ঘোষণা দিল বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এ দর গতকাল রাত ৮টা থেকে কার্যকর হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।

নতুন দর অনুযায়ী, বেসরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা প্রতি কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭১ টাকা ৬৮ পয়সা। অক্টোবরে বেসরকারি বাজারজাতকারী কোম্পানিগুলোর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। সেপ্টেম্বরে ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। সেই হিসাবে দুই মাসে সিলিন্ডারপ্রতি দাম বেড়েছে ৪৭৫ টাকা। গণশুনানিতে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করলেও তা থেকে ৮৪ টাকা বেশি বাড়ানো হয়েছে। তবে এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে।

নতুন দর : সাড়ে ৫ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৯৪৪ টাকা। সাড়ে ১২ কেজির দাম ২ হাজার ১৪৬ টাকা। ১৫ কেজির দাম ২ হাজার ৫৭৫ টাকা। ১৬ কেজির দাম ২ হাজার ৭৪৭ টাকা। ১৮ কেজির দাম ৩ হাজার ৯০ টাকা। ২০ কেজির দাম ৩ হাজার ৪৩৪ টাকা। ২২ কেজির দাম ৩ হাজার ৭৭৭ টাকা। ২৫ কেজির দাম ৪ হাজার ২৯২ টাকা। ৩০ কেজির দাম ৫ হাজার ১৫০ টাকা। ৩৩ কেজির দাম ৫ হাজার ৬৬৫ টাকা। ৩৫ কেজির দাম ৬ হাজার ৯ টাকা। ৪৫ কেজির দাম ৭ হাজার ৭২৬ টাকা।

অন্যদিকে অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ৭ টাকা ৩৩ পয়সা বেড়েছে। আগের মাস অক্টোবরে এ দাম ছিল ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা।

সরকারি এলপিজির দাম বেড়েছে ১৩৯% : এদিন সরকারি এলপিজির নতুন দামও একদফায় অনেক বাড়ানো হয়েছে। এক লাফে ১৩৯ শতাংশ বাড়িয়ে বিইআরসি নভেম্বরে সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের গ্যাসের দাম ১ হাজার ৮৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। অক্টোবরে এ দাম ছিল ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা। সেই হিসাবে এক মাসে সরকারি এলপিজির সিলিন্ডারপ্রতি দাম বেড়েছে ১ হাজার ৮৩ টাকা ৭ পয়সা বা প্রায় ১৩৯ শতাংশ।

বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি সাড়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেসরকারি খাতের ১২ কেজি সিলিন্ডারের তুলনায় ২০০ টাকা কম নির্ধারণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম ও আমদানি খরচ পরিবর্তনের ভিত্তিতে পরবর্তী মাসগুলোতে এই পার্থক্য সমন্বয় করা হতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নভেম্বরের জন্য সৌদি আরামকো প্রতি মেট্রিক টন প্রোপেনের দাম ৭২০ ডলার এবং বিউটেনের দাম ৭৮০ ডলার ঘোষণা করেছে। প্রোপেন ও বিউটেনের ৩৫:৬৫ অনুপাতে মিশ্রণ ধরে প্রতি মেট্রিক টন এলপিজির গড় সৌদি কন্ট্রাক্ট প্রাইস বা সৌদি সিপি দাঁড়িয়েছে ৭৫৯ ডলার। অক্টোবরে এ গড় দাম ছিল ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার। অর্থাৎ এক মাসে প্রতি মেট্রিক টনে দাম বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৫০ ডলার। বিইআরসির হিসাবে, শুধু সৌদি সিপি বৃদ্ধির কারণে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম মূসকসহ প্রায় ৭৪ টাকা বেড়েছে। তবে অক্টোবরের তুলনায় চূড়ান্ত দাম বেড়েছে ২২৩ টাকা।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি এলপিজির মজুতকরণ, বোতলজাতকরণ, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার চার্জও পুনর্নির্র্ধারণ করেছে কমিশন। নতুন দাম নির্ধারণে প্রতি মেট্রিক টন এলপিজির জাহাজভাড়া ও ব্যবসায়ীর প্রিমিয়াম বাবদ ২৫০ ডলার ধরা হয়েছে। প্রতি ডলারের বিনিময় হার বিবেচনা করা হয়েছে ১২৩ টাকা ৪৬ পয়সা।

বেসরকারি এলপিজির মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ চার্জ প্রতি কেজিতে ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানা থেকে পরিবেশকের গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচও রয়েছে। পরিবেশকের চার্জ প্রতি কেজিতে ৭ টাকা ৮ পয়সা এবং খুচরা বিক্রেতার চার্জ ৫ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। খুচরা বিক্রেতার এই চার্জে বাড়িতে সিলিন্ডার পৌঁছে দেওয়ার খরচ অন্তর্ভুক্ত নেই।

এছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে তরল অবস্থায় সরবরাহ করা বেসরকারি এলপিজির দাম প্রতি কেজিতে ১৬৫ টাকা ৮৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি ঘনমিটারে ৩৬৮ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে।

গণশুনানির পর নতুন দাম : এলপিজির বিভিন্ন পর্যায়ের চার্জ পরিবর্তনের জন্য বেসরকারি খাতের চারটি মজুতকরণ ও বোতলজাতকরণ প্রতিষ্ঠান, চারটি পরিবেশক প্রতিষ্ঠান এবং ছয়টি অটোগ্যাস প্রতিষ্ঠান বিইআরসির কাছে প্রস্তাব দিয়েছিল। সরকারি এলপিজির দাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয় এলপি গ্যাস পিএলসি। এসব প্রস্তাবের ওপর গত ২৯ অক্টোবর গণশুনানি করে কমিশন। শুনানিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও আগ্রহী পক্ষগুলো অংশ নেয়। গণশুনানিতে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি বেসরকারি খাতের ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছিল। তবে চূড়ান্ত ঘোষণায় দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৬০ টাকা, যা সুপারিশের চেয়ে ৮৪ টাকা বেশি। কারিগরি কমিটির সুপারিশে মজুতকরণ, বোতলজাতকরণ ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন পর্যায়ের চার্জ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। চূড়ান্ত দাম নির্ধারণে নভেম্বরের আন্তর্জাতিক বাজারদরও বিবেচনা করেছে কমিশন।

বিইআরসি জানিয়েছে, কমিশনের নির্ধারিত দামের বেশি কোনো পর্যায়ে এলপিজি বিক্রি করা যাবে না। বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠান, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের জন্য এই নির্দেশনা প্রযোজ্য। বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজেদের খরচে পরিবেশকের গুদামে সিলিন্ডার পৌঁছে দিতে হবে। এ জন্য নির্ধারিত পরিবহন খরচের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না।

আদালতের নির্দেশনা মেনে ২০২১ সালের ১২ এপ্রিল থেকে সরকারি ও বেসরকারি এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর ঘোষিত প্রোপেন ও বিউটেনের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি মাসে বেসরকারি এলপিজির দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতাপপ্রবাহে দেশে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি অপরিণত শিশুর জন্ম
পরবর্তী নিবন্ধবন্দরের কাছ থেকে চসিক বছরে পাবে ২২৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা