হৃদরোগ নিবারণে প্রয়োজন সমন্বিত কর্ম পদ্ধতি গ্রহণ ও তার বাস্তবভিত্তিক প্রয়োগ

চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের সেমিনারে বক্তারা

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৭:৩৫ পূর্বাহ্ণ

‘হৃদরোগ নিবারণ–হৃদয় দিয়ে অ্যাকশন’ প্রতিপাদ্যে চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে গতকাল র‌্যালি, সেমিনার এবং ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় দেড় শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে দুপুরে হার্ট ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন হার্ট ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি এস.এম আবু তৈয়ব।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাশ। ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য পুষ্টিবিদ হাসিনা আক্তার লিপির সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক চৌধুরী, ডা. এ.কে.এম নাছির উদ্দিন, আজীবন সদস্য খন্দকার বেলায়েত হোসেন, ডা. বিপ্লব ভট্টাচার্য্য ও ডা. এস সি ধর।

মূল প্রবন্ধে অধ্যাপক ডা. প্রবীর কুমার দাশ বলেন, বাংলাদেশে শতকরা ৩১ ভাগ মৃত্যু হৃদরোগজনিত। এখানে তুলনামূলকভাবে কম বয়সীরা এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী হৃদরোগে আক্রান্ত হলে চিকিৎসা খরচের পাশাপশি তার আয় উপার্জন বন্ধ হয়ে নিদারুণ আর্থিক সংকট সৃষ্টি করে। আর এতে মৃত্যু ঘটলে পরিস্থিতি হয় আরো জটিল ও মর্মস্পর্শী। স্বাস্থ্যবীমার অনুপস্থিতি এবং স্বাস্থ্যখাতে অপ্রতুল জাতীয় বরাদ্ধ সাধারণ মানুষের হৃদরোগ চিকিৎসাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, জনগোষ্টির গড় আয়ু বৃদ্ধি হৃদরোগ সমস্যাকে আরো জটিল করে তোলে। সাধারণভাবে হৃদরোগের প্রকোপ বায়োবৃদ্ধিতে বাড়তে থাকে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যভ্যাস ও জীবনযাত্রা, তামাক ও ধূমপানের অভ্যাস, ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকাশক্তি কম বয়সীদের মধ্যে হৃদরোগের বিস্তার ঘটাচ্ছে। এখানে গৃহীত অধিকাংশ খাবার হৃদরোগ নিবারণে অনুকূল নয়। এখানে স্বল্পদামে বিভিন্ন তামাকদ্রব্য ও সিগারেট পাওয়া যায় অনায়াসে। এখানে তামাক নিরোধী আইন আছে, কিন্তু তার যথাযথ প্রয়োগ অনুপস্থিত। ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদকের বিস্তার ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ২০২৫ সালের মধ্যে হৃদরোগ ও অন্যান্য অসংক্রামক রোগ ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনার জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি অর্জিত হয়নি। এ লক্ষ্য অর্জনের সময়সীমা ইতোমধ্যে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এখানে রয়েছে উচ্চমাত্রার বায়ুদূষণ। কর্মক্ষেত্রে, পরিবার ও সমাজে চলমান মানসিক চাপ ও বৈরিতা হৃদরোগ সৃষ্টিতে অবদান রেখে চলছে। সর্বোপরি হৃদরোগের ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান তথা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তের কোলেস্টোরল পরীক্ষা ও হৃদরোগের উপস্থিতি শনাক্তকরণে রুটিন চেকআপ না হওয়াতে তা ধরা পড়ে অনেক দেরিতে। তখন ঘটে যায় প্রাণহানি কিংবা অন্যান্য জটিলতা।

মূল প্রবন্ধে ডা. প্রবীর আরো বলেন, প্রাণঘাতি হৃদরোগ নিবারণে এদেশে প্রয়োজন সমন্বিত কর্ম পদ্ধতি গ্রহণ ও তার বাস্তবভিত্তিক প্রয়োগ। তা হতে পারে পারিবারিক সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে। পারিবারিক শুরুটা হতে হবে পরিবার থেকে। ঘরে কম চর্বি ও ক্যালরিযুক্ত, শাক সবজি, ফলমূল সমৃদ্ধ হৃৎ–বান্ধব খাবার গ্রহণ, গৃহপরিবেশ ধূমপানমুক্ত রাখা, সদা কর্মমুখর থাকা, টেনশন মুক্ত থাকা, পর্যান্ত বিশ্রাম ও ঘুম, প্রত্যহ ব্যয়াম, মেডিটেশন, প্রার্থনা ও নিয়মিত চেক আপের ব্যবস্থা গ্রহণ। সামাজিক ও কর্মস্থলে হৃৎ–বান্ধব খাবার, টেনশনমুক্ত কর্মপরিবেশ, শারীরিক ফিটনেট ব্যবস্থা, ধূমপান, দূষণ ও মাদকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা। নিয়মিত হাটার অভ্যাস, সাইকেল চালানোর ব্যবস্থা, ব্যায়াম ও ফিটনেসের জন্য পর্যাপ্ত মাঠ ও খোলা জায়গার ব্যবস্থা করা। অনুষ্ঠানে অন্য বক্তারা বলেন, হৃদরোগ প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি। বিশেষ করে সুষম খাদ্য খেতে হবে। নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটতে হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরবি দৃষ্টি ডিবেট চ্যাম্পিয়নশীপ ২ অক্টোবর শুরু
পরবর্তী নিবন্ধমুক্তিযোদ্ধা আবুল মনসুর ন্যায়পরায়ণ ও দেশপ্রেমিক ছিলেন : আসলাম চৌধুরী